গত বছরের আগস্ট মাসের পর থেকেই কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনগুলি বেড়ে উঠেছে বাংলাদেশে। সেটা বাংলাদেশে ঘটা আরও একটি ঘটনা প্রমাণ করল। বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খানের সিনেমা মুক্তি পেয়েছে ঈদে। ‘তাণ্ডব’ চলাকালীন ভাঙচুর চালানো হল সিনেমা হল। চলল দেদার লুটপাট। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দেশে বাড়ছে কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনগুলি? তবে কি কট্টরপন্থি মৌলবাদীদের উত্থানে বাংলাদেশ ধ্বংসের মুখে?
২০২৪ সালে ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। তারপর গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার মাথায় বসানো হয় নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনূসকে। কিন্তু পরিস্থিতির কোনও বদল ঘটেনি। বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনগুলির। মাথাচারা দিয়ে উঠেছে তারা। তিনি কি আদেও দেশ চালাতে পারছেন? কারণ তার শাসনামলে ঘটা ঘটনাগুলি আরও বেশি এই সমস্ত প্রশ্নের উত্থাপন করছে। তিনি ব্যর্থ একজন শাসক হিসাবে। এটা শুধু শেখ হাসিনা বা তার দল বলছে না। বলছে, যারা বিদেশ থেকে নিয়ে এসে তার হাতে যারা দেশের ক্ষমতাভার তুলে দিয়েছিলেন তারা। জানা যাচ্ছে, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সিনেমা বাংলাদেশে মুক্তি পেয়েছে। যার মধ্যে সবথেকে বেশি আলোচনা হচ্ছে বাংলাদেশের সুপারস্টার শাকিব খানের সিনেমা তাণ্ডব। এই সিনেমা মুক্তি পেতেই যেমন অনেকে অভিনেতা, নায়কের প্রশংসা করছে, ঠিক একইভাবে কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধ হয়েছে। আর সেই ছবি ধরা পড়ল ময়মনসিংহের ছায়াবাণী সিনেমা হলে। তাণ্ডব চলাকালীন সিনেমা হলের মধ্যে চলে ভাঙচুর। এমনকি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। ক্ষুব্ধ দর্শকরা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে হলের মধ্যে। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই হইচই শুরু হয়ে যায়। জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে ওই সিনেমা হলে সিনেমা চলাকালীন হঠাৎ শেষ দিকে স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় দর্শকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। হলের বাইরে এবং ভিতরে প্রবল ভাবে ভাঙচুর চালাতে থাকেন দর্শকরা। চালানো হয় লুটপাটও। এই ঘটনার পরে ছটা থেকে সাতটা পর্যন্ত শো বন্ধ রাখা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছই পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় পুলিশের তরফে।
আর এই ঘটনায় প্রমাণ করে, বাংলাদেশের কট্টরপন্থীরা পুলিশ প্রশাসন কোনওভাবেই মানছে না। সামান্য ইস্যুতে তাণ্ডবলীলা চালানো হচ্ছে। এমনকি পরিস্থিতি এমন হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে নাজেহাল হতে হচ্ছে পুলিশ বা প্রশাসনকে। কাজেই মহম্মদ ইউনূসের সরকারের দিকে আঙুল তুলছেন অনেকে। কেন তিনি দেশের রাশ টানতে পারছেন না? কেন আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও অবনতির জায়গায় রয়েছে?
এমনিতেই বাংলাদেশে একের পর এক বিক্ষোভ চলছে। একদিকে সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন সরকারের বিরুদ্ধে, আবার অন্যদিকে নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপি লাগাতার প্রতিবাদ করছে। ফলে একদিকে বাড়ছে ইউনূস বিরোধী শক্তি, অন্যদিকে মাথাচারা দিচ্ছে কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনগুলি। এমনিতেই শেখ হাসিনার আমলে যে সমস্ত গঠন পন্থী সংগঠনগুলি নিষিদ্ধ ছিল, সেগুলিকে বাড়তে দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউনুস। খুব তাড়াতাড়ি লাগাম না টানলে, বাংলাদেশ ভঙ্গুর হতে থাকবে। বলছেন বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post