প্রায় দশ মাস বাংলাদেশ শাসন করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। তারমধ্যেই দশমতম বিদেশ সফর করে এগারতম বিদেশ সফরে নোবেল জয়ী। এইবার তার গন্তব্যস্থল লন্ডন। সেখানে একগুচ্ছ কর্মসূচির পাশাপাশি প্রত্যেকের নজর রয়েছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের। আদেও সেই বৈঠক হয় কিনা বা হলেও সেই বৈঠক থেকে কি কি উঠে আসে, সেটা নিয়েই জল্পনা ছড়াচ্ছে। অনেকে বলছেন, মহম্মদ ইউনূস নির্বাচন ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা করার জন্য বৈঠক করছেন। এর পাশাপাশি ইউনূসের থেকেও তারেক রহমানের বেশি উৎসাহ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসার। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আসলে কারণ ঠিক কি? এদিকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করে দেশ ছেড়েছেন ইউনূস। কেউ কেউ বলছেন, গুটি সাজাচ্ছেন ওয়াকার। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বাংলদেশে একটা বড় খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। মত ওয়াকিবহাল মহলের।
জানা যাচ্ছে, সোমবার সন্ধ্যে ৭:৩০ মিনিট নাগাদ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। চারদিনের সফরে লন্ডনে একগুচ্ছ কর্মসূচি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে সূত্র মারফত। খবর রয়েছে, লন্ডন সফরে কিং চার্লস তৃতীয় হারমনি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ দেওয়া হবে মহম্মদ ইউনূসকে। ব্রিটেনের বিদেশমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সেও ইউনূস ভাষণ দিতে পারেন। এদিকে তার সফর সূচির একগুচ্ছ কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে বলে জানা যাচ্ছে। শুক্রবার এই বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করবেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। তবে বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলেননি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। যদিও তিনি বলেছেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সব থেকে বড় রাজনৈতিক দল হল বিএনপি। কাজেই সেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বৈঠক হলে তার ইতিবাচক বার্তা বহন করবে বলেই মত তার। এদিকে শনিবার ছিল বকরি ইদ। সেদিনই যমুনাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে উপস্থিত হন সস্ত্রীক সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এখানে অনেকেই বলতে শুরু করেছিলেন, সেনাপ্রধান আদেও কি সৌজন্য সাক্ষাৎকার করেছেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে? আর বেশি করে এটা উস্কে দিয়েছে, কারণ তার আগেই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনূস। সেখানে তিনি এপ্রিলে নির্বাচন হওয়ার কথা বলেছিলেন। এদিকে সেনাপ্রধান চান ডিসেম্বরে। স্বাভাবিকভাবেই এরপরে প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ ঘিরে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছিল। তবে কি ওয়াকার কোনোভাবে ইউনূসের কথাই মেনে নিলেন? যদিও সূত্রের খবর, তবে কি জেনারেল নিজের সিদ্ধান্তই অনড় রয়েছেন। তারপরই দেশ ছাড়লেন ইউনূস। অনেকেই বলছেন, নির্বাচন ইস্যুতে সেনাপ্রধান প্রধান উপদেষ্টার অনুপস্থিতিতে গুটি সাজাচ্ছেন। অর্থাৎ দেশের অন্দরে খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা একটি মোক্ষম সুযোগ পেয়ে গেলেন। ২১ অগাষ্ট মামলার রায়ে তারেক রহমান সহ বেশ কিছু বিএনপি নেতৃত্ব যে খালাস পেয়েছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার অনুমোদন পেয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, হত্যাকাণ্ড এবং গ্রেনেড হামলা এবং বিস্ফোরক। শুধু তাই নয়, পয়লা জুলাই এর মধ্যেই রাষ্ট্রপক্ষকে আপিল করতে হবে। অর্থাৎ খারা ঝুলচ্ছে বিএনপির উপর। কারণ যদি তারেক রহমান মামলায় জড়িয়ে পড়েন, তাহলে আগামী বছর ইউনুস নির্বাচন করালেও, তারেক রহমানের সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে এই মুহূর্তে মোহাম্মদ ইউনূসের হয়ে কথা বলা ছাড়া উপায় নেই বিএনপির। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আর সেই কারণেই দেখা যাচ্ছে, মোহাম্মদ ইউনূসের যতটা আগ্রহ রয়েছে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার, তার থেকে বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তারেক রহমানের। তবে বলাই বাহুল্য, এই বৈঠক মোহাম্মদ ইউনূসের জন্য জয় নিয়ে আসবে। কারণ বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, সরকারের কোর্টেই বল রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠকের পর দুই তরফেই এমন ভাবে বিবৃতি দেওয়া হবে, যেন সমস্ত বোঝাপড়া ঠিক হয়ে গিয়েছে। ফলে মামলার ভয়ে আরও একবার বাংলাদেশের রাজনীতি খন্ডিত হবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি শক্তিশালী দল হিসেবে যদি সরকারের হয়েই কথা বলে, তবে সরকার প্রায় একপক্ষ হয়েই কাজ করবে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।











Discussion about this post