বাংলাদেশে কি এমন জরুরি অবস্থা ঘটল, যে পুলিশ এমন সতর্ক অবস্থায় অবস্থান করতে শুরু করল? কারণ ঈদের পর পুলিশের তরফে থেকে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। হঠাৎ কেন এটা করতে হল পুলিসকে? কারণ এর আগে একই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে পুলিশ। কিন্তু হঠাৎ বিক্ষোভ, মিছিল, মিটিং বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি কেন করল পুলিশ? এমনকি তাৎপর্যপূর্ণভাবে যখন প্রধান উপদেষ্টা চার দিন লন্ডন সফরে গেলেন। তার বাসভবনের চারদিকে পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি সেইদিন থেকেই কার্যকর করা হয়েছে। হঠাৎ কেন এই তৎপরতা? তবে পুলিশের গোয়েন্দা মারফত কোনও খবর এসেছে? সেই কারণেই এই তৎপরতা? যমুনাতে কোনওভাবে কেউ আক্রমণ করতে পারে, এমন কোনও সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে? যদি তাই হয়ে থাকে, তবে ভয়ঙ্কর কাণ্ড হতে চলেছে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায়। তবে কারা তারা? তাদের কি চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ?
ঢাকা পুলিশ নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এটি ঈদের পরের দিন। এমনকি এই একই প্রজ্ঞাপন একাধিকবার জারি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পরবর্তী নোটিস জারি পর্যন্ত এটা বলবৎ থাকবে। তবে বারেবারে কেন? অনেকে পুলিশের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরছেন। ৮ তারিখের প্রজ্ঞাপন জারি করে বলা হয়েছে, যমুনার আশেপাশে কোনও সভা, সমাবেশ করা যাবে না। এরকম একই প্রজ্ঞাপন ঢাকা মেট্রো পলিটন পুলিশ জারি করেছে। ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ সাজ্জাদ আলী সাক্ষরিত এমনটাই বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এদিকে রবিবার একটি গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, জনসাধারণের জন্য জানানো হচ্ছে, জন শৃঙ্খলা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স নম্বর ৪/ ৭৬..এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতা বলে আগামী ৯জুন পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ঢাকার সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন সংলগ্ন সহ একাধিক জায়গার নাম করে সভা, সমাবেশের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে এমন প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে একাধিকবার। কিন্তু এই বিজ্ঞপ্তি জারি করে অবস্থায় যমুনার সামনে মঞ্চে বেঁধে এনসিপি সভা, জমায়েত করেছে। কিন্তু অন্য রাজনৈতিক দল সেটা করতে গেলে, তাদের কঠোরভাবে নিষেধ করেছে শুধু তাই নয়, তাদের দিকে মারমুখী আচরণ করেছে। এখানেই প্রশাসন ও সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। এমনকি কেউ কেউ বলছেন, পরবর্তীকালে এনসিপি যদি ফের আন্দোলন করতে চায়, তবে কি পুলিশ প্রতিহত করবে? নাকি এনসিপির জন্য সমস্ত নিয়ম বন্ধ থাকবে? অন্যদিকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ঈদের পরের দিনই পুলিসকে কেন এমন বিজ্ঞপ্তি দিতে হল? তবে কি কোনওভাবে পুলিশের কাছে খবর রয়েছে, যে যমুনাকে ঘিরে কোনও আন্দোলন হতে পারে? তারা কারা? তারা কি বস্ত্র শিল্পের শ্রমিক? অভিযোগ রয়েছে, বহু বস্ত্র শিল্পের শ্রমিকদের তিন মাস বেতন, বোনাস কিছুই দেওয়া হয়নি। ঈদের আগে তাদের আন্দোলন দেখা গিয়েছিল। এমনকি যমুনার সামনেও তারা আন্দোলন করেছিল। সেই আন্দোলন কি আছে চাঙ্গা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে? নাকি নির্বাচন ইস্যুতে রাস্তায় নামার সম্ভাবনার প্রবল আশঙ্কা করছে সরকার? যে কোনওদিন বিএনপির সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাস্তায় নামতে পারে। এমনিতেই বিক্ষিপ্তভাবে আন্দোলন চলছেই। আরও বড় করে কোনও আন্দোলনের হয়তো হদিশ পেয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্র মারফত। আর সেই কারণেই এই বিজ্ঞপ্তি পুলিশের তরফে। অন্যদিকে পুলিশ কি কোনওভাবে এই খবর পেয়েছে, যে আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের অন্দরে? কারণ এই সম্ভাবনার কথাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টা তো লন্ডনে রয়েছেন। তার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার তো কোনও বিষয় নেই। তবে নিশ্চই পুলিশের কাছে এমন কোনও তথ্য রয়েছে,যেটা যমুনা সহ ঢাকা কে উত্তাল করতে পারে, সরকার বিব্রত পরিস্থিতিতে পড়তে পারে। অর্থাৎ সেটি সরকার বিরোধী কোনও আন্দোলন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post