চারদিনের লন্ডন সফর সেরে দেশে ফিরছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দলকে নিয়ে তিনি সরকারি অর্থেই লন্ডন সফর করেছেন। কিন্তু কোনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানা যায়নি। তাঁদের সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার বা অন্য কোনও মন্ত্রী-সচিব। তাহলে এই সফর কিভাবে রাষ্টীয় সফর হয়? এর মধ্যেই আবার মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর বাহিনীর লন্ডনের হোটেলে থাকার খরচ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ বাংলাদেশের আম নাগরিকদের। প্রশ্ন উঠছে, এই কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন সফর থেকে কি পেল বাংলাদেশ?
বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস গত ৯ জুন ইংল্যান্ডে পা দিয়েছিলেন। তিনি উঠেছিলেন লন্ডন শহরের অত্যন্ত ব্যয়বহুল হোটেল দ্য ডরচেস্টারে। আল জাজিরা টিভির সাংবাদিক বাংলাদেশের জুলকারনাইন সায়ের একটি ফেসবুক পোস্টে মুহাম্মদ ইউনূসের থাকা-খাওয়া খরচের একটি হিসেব তুলে ধরেন হোটেল বিলের একটি প্রো ফরমা ইনভয়েস-সহ। তিনি দাবি করেন, ৪ রাতের জন্যে ৩৭টি রুম রিজার্ভ করা হয়েছিল ওই হোটেলে। কারণ, মুহাম্মদ ইউনূস এই সফরে মোট ৩৯ জনকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন লন্ডনে। সবমিলিয়ে হোটেল ভাড়া বাবদই বাংলাদেশ সরকার খরচ করেছে মোট ২ লক্ষ ১০ হাজার ৩২৫ ব্রিটিশ পাউন্ড। বর্তমানে ১ পাউন্ডের দাম ১৬৬ টাকা হিসেবে বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। ওই হোটেল বিলের কপি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল কক্ষে অবস্থান করেছেন প্রধান উপদেষ্টা স্বয়ং। সেটির ভাড়া দৈনিক ৬০৪৫ পাউন্ড বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লক্ষ টাকা। ফলে কেবল তার কক্ষেরই বিল আসে ৪০ লক্ষ টাকা বা ২৪,১৮০ পাউন্ড।
ওই ফেসবুক পোস্টে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়র দাবি করেছেন, দেশের সরকার প্রধান অবশ্যই বিদেশ সফরে যেতে পারেন। তার নিরাপত্তা ও মর্যাদা বিবেচনায় যে কোনও শীর্ষ হোটেলেই তিনি ও তাঁর দল অবস্থান করতে পারেন। কিন্তু তাঁর এই সফরে বাংলাদেশ কি পেলো বা কিভাবে লাভবান হলো সেটা প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি লন্ডনে দ্বিপাক্ষিক কোনও বৈঠকের জন্যে আসেননি, সেটা তো নিশ্চিত। ব্রিটিশ রাজার কাছ থেকে ব্যক্তিগত পুরস্কার গ্রহণ করেছেন কেবল। আর বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাত করেছেন। কোনও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে বলেও জানা যায়নি। তাহলে এত খরচ কিসের জন্য? প্রশ্ন তুলেছেন জুলকারনাইন সায়ের।
জুলকারনাইন সায়েরের এই ফেসবুক পোস্ট সামনে আসতেই তোলপাড় শুরু হয় বাংলাদেশে। প্রবল সমালোচিত হতে শুরু করে মুহাম্মদ ইউনূসের এই লন্ডন সফর। চাপে পড়ে যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তখনই আসরে নামেন মুহাম্মদ ইউনূসের আরেক সহমর্মী তথা সহযোগী পিনাকি ভট্টাচার্য। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করে জুলকারনাইন সায়েরকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি তাঁকে দুই সিং ওয়ালা ফতরা বলেও উল্লেখ করেন। পিনাকির দাবি, জুলকারকে এই হোটেল বিলের কপি দিয়েছে লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্তব্যরত ডিজিএফআইয়ের এক কর্তা। তাঁর দাবি, ঢাকা থেকে ডিরেক্টর অফ মিলিটারি ইন্টালিজেন্স বা ডিএমআইয়ের নির্দেশে তিনি এই প্রচার করছেন। এই সুযোগে পিনাকি ভট্টাচার্য ফের একবার জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকেও ভারতের চর বলে উল্লেখ করেছেন। জবাবে জুলকারনাইন লেখেন, ওরে মোর লেংটা সুলেমান, ডিজিএফআই আর ডিএমআই দুইটা ভিন্ন জিনিষ। একটার সাথে আরেকটার কোনও সম্পর্কই নাই। আর ব্যাথা বুথা ওইসব আমার মধ্যে কাজ করে না।
মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডন সফর থেকে কি পেলেন, সেটা ভবিষ্যতই বলবে। তবে তাঁর সফরের যে খরচের হিসেব প্রকাশ পেয়েছে সেটা শুধুমাত্র হোটেল বিল। ঢাকা থেকে ইউনূস-সহ ৪০ জন লন্ডনে যাতায়াত ও আনুষাঙ্গিক খরচ ধরা হয়নি। জুলকারের দাবি, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল লন্ডন যান এমিরেটসের বিমানে। যেখানে ঢাকা থেকে লন্ডনের সরাসরি পরিষেবা দেয় বিমান বাংলাদেশ। রাষ্ট্রায়ত্ব বিমানে সফর না করে তাঁরা গেলেন অপেক্ষাকৃত বেশি দামি এয়ারলাইন্সে। এটাও মুহাম্মদ ইউনূসের মানসিকতার বহিপ্রকাশ।












Discussion about this post