বাংলাদেশ অন্তরবর্তীকালীন সরকার আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ করা কি ভাবে সম্ভব? সম্প্রতি আওয়ামীলীগের একজন জেলা আঞ্চলিক নেতার জানাজার দৃশ্য বলছে অন্যকথা, লক্ষ লক্ষ মানুষ উপস্থিতি একটি শোককে কেন্দ্র করে। যেটি আবারও প্রমান করলো চাইলেই আওয়ামীলীগকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
অনেকেই মনে করছেন সেদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠান সমাবেশ এ দর্শক ভাড়া করে নিয়ে আসা হলেও, জানাজার মত অনুষ্ঠানে সাধারণ জনগণকে ভাড়া করে আনা হয়নি। নিজেদের স্বতঃস্ফূর্ততা থেকেই এই জনসমাগম। অর্থাৎ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যে সকল ব্যক্তি আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন করতে মরিয়া তাদের এখন অন্তত বোঝা উচিৎ, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির মৃত্যুর শোককে কেন্দ্র করেই জনগনের এই উপস্থিতি। গতবছর গনভ্যুত্থানের পর বেশিরভাগ আওয়ামীলীগ নেতাই বাংলাদেশেই রয়েছেন। আর বাকি কিছু অংশ শীর্ষানেতৃত্বরা ভারতে বা বিশ্বের নানা প্রান্তে অবস্থান করছেন। কিন্তু জানা গিয়েছে ওই দিনের জানাজার অনুষ্ঠানে মানুষ যেভাবে উপস্থিত থেকেছেন, স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে পুলিশের চোখ রাঙানীকে উপেক্ষা করে তারা বেরিয়ে এসেছে। আজ সেদেশে জনগণের ক্রান্তীকালে, দেশ বিরোধী রাষ্ট্র বিরোধী যে সমস্ত কর্মকান্ড চলছে তার বিরুদ্ধে যদি ঠিক এভাবেই সাধারণ মানুষ সমস্ত ভয় উপেক্ষা করে বেরিয়ে আসে তখন এই জনগনকে কি ভাবে ঠেকাবে, আওয়ামীলীগ বিরোধীরা! কত মানুষকে গ্রেফতার করবে তারা।
উল্লেখ্য, দেশে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে বর্তমান ইউনুস প্রশাসন। বাতিল করা হয়েছে দলটির নিবন্ধন। কিন্তু তবুও সেদেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে এখন সেই আশার আলো লক্ষণীয়, আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, আওয়ামীলীগ আবারও দেশে সক্রিয় হয়ে উঠবে। গতবছর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর হাসিনা আশ্রয় নেন ভারতে আর সেই সময় থেকে ভারতে বসেই বহুবার বিভিন্ন সময় দেশে ফেরার বার্তা দিয়েছেন আওয়ামীলীগ নেত্রী। যা দলের নেতৃত্বকে যেমন উজ্জীবিত করেছে তেমনই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে আশস্ত করেছে। শুনুন আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সেই ভাইরাল অডিও বার্তা গুলি,,
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা যাতে ভারত থেকে বাংলাদেশ নিয়ে কোন বিবৃতি না দেন তার জন্য ভারতের কাছে আবেদন জানিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। কিন্তু ভারত সরকার তার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ব্রিটেন সফরে গিয়ে এমনটাই জানিয়েছিলেন ইউনুস। তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে আমার কথা হয়। তাকে বলা হয় শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে বাঁধা দেবো না কিন্তু ভারতে বসে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি যে ভাবে অডিও বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন তাতে দেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।’ ইউনুস আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাকে পাল্টা জানিয়েছেন হাসিনা বিবৃতি দিচ্ছেন সোশাল মিডিয়ায়, সেখানে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই। অর্থাৎ ভারতের সহায়তা এবং দেশের সাধারণ জনগণের সমর্থনে হাসিনা দেশে ফিরবেন খুব শীঘ্রই তা বলাই বাহুল্য। কারণ বাংলাদেশ জুড়ে যেভাবে দুর্নীতি বেড়ে চলেছে তা প্রতিহত করতে দেশে ফিরতেই হবে আওয়ামীলীগকে।












Discussion about this post