সদ্য লন্ডন সফর সেরেছেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। তার এই সফর এবং সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক সবকিছু নিয়ে যখন বিভিন্ন স্তরে আলোচনা হচ্ছে তখন বাংলাদেশের বিভিন্ন পক্ষও থেমে থাকেনি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে উচ্চপদস্থ কোন আধিকারিক যদি ছুটিতে থাকে তাকে ছুটি বাতিল করে ১৪ ই জুন কর্মক্ষেত্রে যোগদান করার কথা বলা হয়েছিল। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়েই নির্দিষ্ট ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ঈদের পরে বলা হয়েছিল সেনাবাহিনীর রাজপথে রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে যেকোনো সময় তারা কঠোর ভূমিকা অবতরণও হতে পারে।
এর আগে কেমন সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট ভাবে হয়েছিল সেনাবাহিনী কোনভাবেই কঠোর ভূমিকায় থাকলে কারোর গায়ে হাত তুলতে পারবে না। কিন্তু এই নয়নের দেশে বলা হয়েছে ঈদের পর থেকে সেনাবাহিনী তার সক্রিয়তা বাড়ালে দুর্বৃত্ত কারীদের বিরুদ্ধে যে কোন ধর্মের পদক্ষেপ দ্বারা নিতে পারেন। এমতবস্থায় দেখা গিয়েছে এই ঘোষণার পরে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শীর্ষ অফিসাররা তাদের ছুটি বাতিল করে ক্যান্টনমেন্টে তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি শীর্ষ মহলের নির্দেশ অনুযায়ী অস্ত্র উদ্ধার পাচার সমস্ত কিছুতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে সেনা সদস্যদের। এছাড়াও সম্প্রতি লন্ডন শহরে গিয়ে প্রধান ও প্রতিষ্ঠা মোঃ ইউনুস এর সঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে বৈঠক সম্পন্ন হল সেই বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারের তরফে একটি উনিশ পৃষ্ঠার রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। সেখানে এই বৈঠকের প্রসঙ্গ ধরে এবং বৈঠক পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর কি করনীয় কি করনীয় নয় সবকিছুই উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ মনে করা হচ্ছে এই আর্মি ইন্টাটেলিজেন্স এর রিপোর্টটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যদিও বিস্তারিতভাবে এখনো পর্যন্ত রিপোর্টটি প্রকাশ আসেনি। তবে জানা গিয়েছে লন্ডন শহরের শেষ পড়বে মুহাম্মদ ইউনুছ এবং তারেক রহমানের বৈঠক এর পর জাতীয় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা বক্তব্য রেখেছেন তা নেতিবাচক করেই মনে করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। কারণ সে না মনে করছে কোন দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার অন্তত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত অবগত থাকা উচিত। কিন্তু খলিলুর রহমাননের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো ব্যাকগ্রাউন্ড নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ ইউনুস বেশ কিছুদিন আগেই তারেক রহমানকে ক্রিমিনাল বলে উল্লেখ করেছিলেন। ৩১ মে বাংলাদেশের নির্বাচন ইস্যুতে তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনালাপ শেষে এমনই মন্তব্য করেছিলেন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। আর এই ঘটনা ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই শোনা গিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টা লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। আর সেই সফরে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকও করলেন তিনি। হঠাৎ কি এমন ঘটল যে এই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই ক্রিমিনাল তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তাকে লন্ডন পাড়ি দিতে হলো?
মনে করা হচ্ছে এখন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস রাজনীতিতে তার পায়ের নিচের মাটির শক্ত করতে মরিয়া।
১০ মাসের শাসনকালে ১১তম বিদেশ সফর করলেন বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস। সদ্য লন্ডন সফর ও সারলেন ইউনুস। কিন্তু এই সফরের কারণ হিসেবে মোহাম্মদ ইউনুস যে কারণগুলি সামনে এনেছিলেন সেগুলির বেশির ভাগটাই অনিশ্চয়তায় রয়েছে। আর এই মুহূর্তে এই সফরে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক। আবার এই সফরকালেই লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণের একটি অংশ দুর্নীতিবাজ। কিন্তু যে সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রায়শই বিদেশ সফর করেন অর্থাৎ দেশের মানুষের জন্য কোন অবদান রাখেন না মানুষের সুখে দুখে পাশে থাকে না সেই সরকারের মুখে এমন মন্তব্য সত্যিই আপত্তিকর। দেশের মানুষকে দুর্নীতিগ্রস্থ প্রমাণ করতে মরিয়া মোহাম্মদ ইউনুস। কিন্তু তিনি নিজেই রাষ্ট্রীয় সফরের নামে বিপুল পরিমাণে সরকারি অর্থ খরচ করে লন্ডনে পাড়ি দিয়েছেন শুধুমাত্র তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে। আর এখন দেশকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে মোঃ ইউনুসের ভূমিকাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলের শুরু হয়েছে আলোচনা।












Discussion about this post