আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় ধীরে ধীরে চাপ বাড়ছে সৃষ্টি হচ্ছে ডঃ মহম্মদ ইউনূসের ওপর। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে? উঠছে সেই প্রশ্ন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবশ্য পুরো বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের ওপর। তবে নির্বাহি আদেশে নিষিদ্ধ হওয়ায় সরকার যতই বলুক, নির্বাচন কমিশনের পক্ষে এ বিষয়ে কিছুই করার নেই, কিন্তু কমিশনের একাধিক সূত্র বলছে, সত্যিকার অর্থে নির্বাচনের আবহ তৈরি হলে এ নিয়ে মুখ খুলবে নির্বাচন কমিশন। তখন সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আওয়ামী লীগের এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে নাকি থাকবে না।
গত বছর অগাস্টে বাংলাদেশে সরকার পতনের পর গঠিত হয় অন্তরবর্তী সরকার। এই সরকারের শাসনকালের কিছুদিন কাটতে না কাটতেই গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে আওয়ামীলীগ দলটিকে দেশে নিষিদ্ধ করার ইস্যু নিয়ে শুরু হয়েছিল নানা রকম জল্পনা। কখনও অন্তরবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেস্তারা বলেছেন বাংলাদেশে কোনও দলকেই নিষিদ্ধ করা হবেনা আবার কখনও বলেছেন আওয়ামীলীগ নিশ্চিহ্ন হবে বাংলাদেশে। তবে এই দীর্ঘ টালবাহানার প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস গত ১২ মে একটি ঘোষণা দেন। তিনি জানান, জুলাই হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশ জুড়ে আওয়ামীলীগ এর সমস্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে, সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে দলটিকে সাম্যয়িক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে অক্টোবরেও ছাত্রলীগের কার্যক্রম সন্ত্রাস বিরোধী বলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় অনেক গুলি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যেমন একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ করা হলে তার গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোতে কতটা প্রভাব পরবে? এটি কি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কে আরও জটিল করবে? বাংলাদেশে ত্রয়দশ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ কি অংশগ্রহণ করতে পারবে?
উল্লেখ্য গোটা বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক চঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। শুরুতে সেদেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলো ভারত ও আমেরিকা। সম্প্রতি জাতিসংঘ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, আর যেটি ভাবাচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসকে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিষিদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করে সম্প্রতি আইনে পরিবর্তন আনা এবং এই সংক্রান্ত সব কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এটা অন্যায্যভাবে সংগঠনের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সমবেত হওয়ার স্বাধীনতাকে সীমিত করবে।’
তবে, বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে অগ্রগতি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘আমি সংস্কারের ক্ষেত্রে অর্থবহ অগ্রগতির আহ্বান জানাচ্ছি, যেন অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা যায়।’
সম্প্রতি সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করে সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর শাখাসংগঠন, সহযোগী সংগঠন নেতা কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনও সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার শাখা সংগঠন গুলিকে শাস্তি দিতে পারবে। কিন্ত জাতিসংবঘের উদ্বেগ প্রকাশের পর কার্যত চাপে পড়ছেন মহম্মদ ইউনুস। এখন দেখার আগামী নির্বাচনে ইউনুসের এই ষড়যন্ত্র কতটা কার্যকরী হয়।












Discussion about this post