বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পতন ঘটার পরে সেই জমানার একের পর এক নেতা, কর্মী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে জনতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আরও একবার সেই নজির দেখা গেল। অনেকে বলছেন, সাবেক সিইসি নুরুল হুদা ছিলেন হাসিনার কিং পিন। এমনকি আওয়ামী লীগ জমানার তিন সাবেক সিইসির জন্যই নাকি হাসিনার বারবার জয়। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদাকে তার উত্তরার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়। তিনি নাকি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভোট চুরির কারিগর ছিলেন। দিনের ভোট রাতে করাতেন। তারপর তার গলায় জুতার মালা পড়িয়ে ভিডিও করার পর পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পরে সেখান থেকে সাবেক এই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেফতার দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ডিবি হেফাজতে। আর ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে। দেখুন সেই ভিডিও
কে এম নুরুল হুদা, ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নাকি ভোট শুরু হওয়ার আগেই শেষ করে দিতেন। এমনটাই অভিযোগ ছিল। এমনকি অভিযোগ ছিল, রাতের অন্ধকারে ব্যালট বাক্স ভরানো হয় আওয়ামী লীগের পক্ষে।
কিন্তু এই অভিযোগ মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। সেই সময়কার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে।
তবে সেই সময় থেকে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জন্মায়। কিন্তু সুযোগ ছিল না। তবে এখন আর আওয়ামী লীগ সরকার নেই। এমনকি আওয়ামী লীগ নেত্রী দেশ ছেড়েছেন। চলছে ছাত্রনেতাদের জমানা। আর এই পরিস্থিতিতে সাবেক কে এম নুরুল হুদা জনতার রোষে পড়ল। বিএনপির করা একটি মামলায় রবিবার সন্ধ্যেতে ঢাকার উত্তরার বাড়ি থেকে সাবেক সিইসিকে আটক করে কিছু মানুষ। তারপর পুলিশ গ্রেফতার করে। অভিযোগ, এই নুরুল ছিলেন আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারীদের অন্যতম। অথচ এই দরদণ্ডপ্রতাপ নেতা এখন জনতার রোষে আটক। তাকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। পরে তাকে ৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
অন্যদিকে মানুষের ভোটাধিকার হরণের আর একজন কারিগর ধরা হয় সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আওয়ালকে। নুরুল হুদা গ্রেফতার হতেই গুঞ্জন তৈরি হয়, তাকেও হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। কিন্তু স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি তাকে।
সাবেক সিইসি কাজী হাবিবুল আওয়াল একাধিক নির্বাচনে বিতর্কিত বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ। এমনকি বহু রাজনৈতিক দল নির্বাচন বয়কট পর্যন্ত করে। আওয়ামী লীগের সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যারা প্রহসন করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম এই হাবিবুল আওয়াল।
বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল অংশ না নেওয়ায় ২০২৪ সালে নাকি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোটারবিহীন। কিন্তু হাবিবুল আওয়াল বলেছিলেন, প্রত্যেকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভোট।
অন্যদিকে মৃত ভোটাদের নিয়েই সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল সেই সময়। এমনকি একের পর এক স্বচ্ছ ভোট হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অনেকে আবার বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি ভোল বদলেছিলেন। হাসিনার পতনের পর তার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে দেশের কলঙ্কিত উল্লেখ করে সিইসির পদ থেকে পদত্যাগ করেন কাজী হাবিবুল আওয়াল।
এছাড়াও আরও একজনের নাম উঠে আসে। তিনি কাজী রকিবদ্দিন আহমেদ। তিনি ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন তিনি। তিনি তখনকার সিইসি ছিলেন। তার সময়ও নানা অভিযোগ উঠে আসে। কিন্তু তিনি কোনও পদক্ষেপ করেননি। এখন নুরুল হুদা ছাড়াও আরও বাকি দুজনকেও গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।












Discussion about this post