ডিসেম্বরে ভোট চাই ভোট চাই করে লাফাচ্ছিল বিএনপি, শুধু তাই নয় তদারকী সরকারকে বিব্রত করে বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক সমাবেশ মিটিং মিছিল করছিল দলটি। যখন কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্দিপনা লক্ষ করা যাচ্ছিল, ঠিক তখন ইউনূস সাহেবের ফাঁদে পড়ল বিএনপি । লন্ডনে ইউনূস সাহেবের সঙ্গে বৈঠক হয় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। দীর্ঘ আলোচনার পর ঠিক হল ভোট এপ্রিল থেকে এগিয়ে ফেব্রুয়ারীতে হবে। কিন্তু এই ঘোষনার পর বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকান্ডগুলি স্তিমিত হয়ে গেল। তদারকী সরকারের বিভিন্ন দেশ বিরোধী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বিএনপির বিরোধীতা আন্দোলোন সব থেমে গেল। এছাড়া ভোটের বিষয়টি শুধু বিএনপিকে নিয়ে আলোচনা করায় অন্যান্য দলগুলির মধ্যে বিরূপ পতিক্রিয়া দেখা দিতে শুরু করল। বিএনপির নেতাকর্মীরাও চিন্তায় আছেন যে তাদের নেতা কবে দেশে ফিরবেন। এখন তো তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই, সরকারের তরফ থেকেও কোন আপত্তি নেই, তাহলে তারেক রহমান দেশে ফিরে কেন দলের হাল ধরছেন না। যদিও ভোটের সময় নিয়ে না ভেবে বিএনপি সরকারের দেশবিরোধী কার্যক্রম গুলি নিয়ে জনগনের কাছে তুলে ধরলে বেশী লাভবান হত। কারণ এই মহুর্তে বাংলাদেশে প্রধান এবং বৃহত্তর দল হিসাবে বিএনপির উচিৎ ছিল, তদারকী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান করা, এবং বিরোধী দলের ভুমিকা পালন করা।কারণ এই তদারকী সরকার কোন জাতীয় বা সর্বদলীয় সরকার নয়। তাই এই সরকার কি কি ভুল করছে এবং দেশের ক্ষতি করছে তার জবার চাওয়া উচিৎ ছিল বিএনপির। কিন্তু বিএনপি মহম্মদ ইউনূসের থেকে গত ১০ মাসে দেশের উন্নতিতে কি করা হয়েছে এবং আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগগুলি করা হয়েছিল তার সত্যতা প্রমানে এই সরকার কি কি করেছে, তা জানতে চাওয়া উচিৎ ছিল। অথবা প্রতি বছর হাসিনা সরকার যে পরিমান অর্থ পাচার করেছে, তা যদি বন্ধ হয়ে থাকে তবে হাসিনার রেখে যাওয়া রির্জাব বাড়ল না কেন, সেই টাকা কোথায় গেল। এখন টাকা কাদের হাতে কারা পাচার করছে। করিডর, বন্দর, সেন্টমার্টিন এগুলির আসল অবস্থা কি। একটি দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ যদি একটি দলকে সমর্থন করে, আর সেই দলটিকে নিষিদ্ধ করলে, সেই ৪০ শতাংশ মানুষের সঙ্গে কি অন্যায় করা হবে না। তারা ভোটে অংশ গ্রহণ করলে ভোট দেবে কোথায়।আর আওয়ামীলিগ ছাড়া ভোট হলে বিদেশে তার কি প্রভাব পড়বে। যদিও ইউনূস সাহেব আওয়ামীলীগের ভোটে অংশ গ্রহনটিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দিয়েছেন।কিন্তু এই নির্বাচন কমিশন তো তাই করবে, যা এই সরকার চাইবে। আওয়ামীলীগকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিরুদ্ধে অবস্থান করে বিএনপি দেশের মানুষের কাছে নিজেদের উদারতার পরিচয় দিতে পারতেন, আওয়ামীলীগ ভোটে অংশ গ্রহন করলে, এবং বিএনপি জিতলে তারা বলতে পারতেন আমরা দেশের মানুষের রায়ে জিতেছি। কিন্তু বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার লোভ এবং আওয়ামীলীগকে এতই ভয় যে তারা সরকারের বিরুদ্ধে না গিয়ে, সরকারের সঙ্গে লন্ডনে সমঝোতা মিটিং সারলেন। যার ফলে সবাই বুঝে গেল বাইরে যাই বলা হোক না কেন আসলে ভিতরে ভিতরে যা খেলা হওয়ার হয়ে গেছে। বিএনপি ভোটে জিতলেও, মানুষ বলবে খালি মাঠে গোল দিয়েছে বিএনপি। আওয়ামীলীগের কোন সংগঠন না থাকা স্বত্বেও তাদের ভয় পেয়ে ভোটে অংশ নিতে দেয়নি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post