বাংলাদেশে নির্বাচনের বাতাবরণ! কবে হবে দেশে আগামী নির্বাচন? তার উত্তরে কখনও শোনা যাচ্ছে আগামী বছর ফেব্রুয়ারী কখনও বা জুন। অন্তরবর্তী সরকারের অভ্যন্তরেই নির্বাচন নিয়ে নানাবিধ মত রয়েছে। এই সরকারের অন্তত ৫ জন উপদেষ্টা মনে করেন দেশে জাতীয় নির্বাচন জুনের মধ্যে না হলেও সরকারের কোনও ক্ষতি হবেনা। যার জেরে নির্বাচনে বিলম্ব ও কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। এই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাঝে প্রশ্ন, নির্বাচন হলে কোন পদ্ধতিতে হবে? সেটি কি অংশগ্রহণমূলক হবে? নাকি শেষমেশ আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে এই নির্বাচন হবে? কোন পথে এগোতে চাইছে অন্তরবর্তী সরকার? নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের পলিসি কী? তারা কি নির্বাচনে অংশনিতে চাইছে নাকি অন্য পরিকল্পনা আওয়ামীলীগের? সেই ফাঁদে কি তবে পা দিলেন মহঃ ইউনুস।
আওয়ামীলীগের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাঁদের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে সেগুলি তুলে নিতে চলেছে অন্তরবর্তী সরকার, ফলে আগামী নির্বাচন অংশুগ্রহণমূলক হবে নাকি আওয়ামীলীগ কে নিষিদ্ধ রেখেই একপেশে নির্বাচন হবে বাংলাদেশে এটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু ধীরে ধীরে যেভাবে আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জাতিসংঘও উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে তাতে দেশে অন্তরভূক্তিমূলক নির্বাচন করাতে বাধ্য হতে পারেন মহম্মদ ইউনুস। কিন্তু এখন আওয়ামীলীগ কি চাইছে?
এই বিষয়ে ব্যারিস্টার শামিম পট্টয়ারি এই নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, আওয়ামীলীগ চায় তাদের বাদ দিয়েই সরকার এই নির্বাচনটি করুক। যাতে পরবর্তীতে আওয়ামীলীগ দাবি জানাতে পারে যে অন্তরবর্তী সরকার আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে এক পাক্ষিক নির্বাচন করিয়েছে। আর দলটির এই পরিকল্পিনার কারণ হিসবে বলা হচ্ছে, এর আগে ২০১৪ ও ২০২৪ এ আওয়ামীলীগ একপাক্কিক নির্বাচন করিয়েছিলো, ফলে সেই দায় রয়েছে আওয়ামীলীগ এর কাঁধে। আর এই দায় থেকে মুক্ত হতেই আওয়ামীলীগ চাইছে আগামী নির্বাচনটি মহম্মদ ইউনুস আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে করুক যাতে তারা দাবি করতে পারে অন্তর্ভুক্তির সরকারও একইভাবে একপেশে নির্বাচন করিয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ এবং তার আমলের সমস্ত দোষগুলি থেকে মুক্ত হতে চাই তার পাশাপাশি এই একপাক্ষিক নির্বাচন এর সামনে রেখে বিশ্বব্যাপী দাবি করতে চাইছে আওয়ামী লীগ যদি একপাক্ষীক নির্বাচন করেন ভুল করে থাকে তবে একইভাবে একপাক্ষিক নির্বাচন কেন করালেনমহম্মদ ইউনুস। অর্থাৎ তারা একই অপরাধে অপরাধী ফলে তাদের সেই অপরাধ কেটেও যাবে। আর এরপর স্বচ্ছ ভাবমূর্তি নিয়ে পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারলে আওয়ামী লীগ যেমন দেশের জনগণের সমর্থন পাবে তেমনি আন্তর্জাতিক স্তরে সমর্থন পাবে দলটি। ফলে দেশের সরকার গঠন করতে আর কোন বাঁধাই থাকবে না আওয়ামী লীগের। এই মুহূর্তে দেশে যখন নির্বাচনের হাওয়া বলতে শুরু করেছেন তখন ব্যারিস্টার শামীমের এই মন্তব্য নতুন জল্পনার জন্ম দিলো।












Discussion about this post