বাংলাদেশ জুড়ে প্রকট হচ্ছে মব ভায়োলেন্স। সেদেশের সরকার মবের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়িয়ে, বরং মবের মাধ্যমে যে দাবি করা হলো তা বাস্তবায়ন করলো। কারণ, সম্প্রতি খিলক্ষেতের একটি দূর্গা মন্দির ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, ওই মন্দির সরকারি জমির ওপর নির্মিত। যার জেরে প্রতিমাসহ মন্দিরটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হলো। এরপর এই ঘটনায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয় সামাজ মাধ্যমে।এবং আন্তর্জাতিক স্তর থেকে ভবিষ্যতে সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা ধেয়ে আশার সম্ভাবনাও প্রবল। ইতিমধ্যেই এই মন্দির ভাঙার সমস্ত ফটো ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এই সমস্যার সমাধান হিসাবে অন্তরবর্তী সরকারকে এই ঘৃণ্য পন্থাটিই কেন অবলম্বন করতে হলো?
ঢাকায় অবস্থিত এই দুর্গা মন্দিরটি বুলডোজার দিয়ে ভাঙার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে গোটা দেশে। অনেকের দাবি সরকারের মদতেই মব সৃষ্টিকারীদের এই বাড়বাড়ন্ত। অর্থাৎ এই মন্দিরটি যদি সরকারি রেলের জায়গায় গড়ে ওঠে তবে সে বিষয়ে মন্ডির কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আপসে মন্দির টিকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন কিন্তু তিনি সেটি না করে হিন্দু ভাবাবেগকে আঘাত করে মন্দিরটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়ার দাবীকে বাস্তবায়িত করতে সহায়তা করলো।
রাজধানীর খিলক্ষেতে রেলের জায়গায় অস্থায়ীভাবে নির্মিত একটি মন্দির অপসারণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা। ২৩ জুন সোমবার রাতে একটি মিছিল থেকে এ দাবি জানানো হয়। তারা জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টা মধ্যে মন্দির সরিয়ে নিতে হবে।
অর্থাৎ, ২৪ শে জুন ঢাকায় অবস্থিত ওই দূর্গা মন্দির ভাঙার চরম সতর্কটা দিয়েছিলো কট্টর পন্থীরা। এমনই অভিযোগ সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের। বাংলাদেশ সেনার তরফে জানানো হয় তারা এই মন্দিরটি অপসারণের নির্দেশ পেয়েছে সরকারের তরফে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী সতর্ক করে বলেন এই মন্দির টি যদি অপসারণ না করা হয়, এবং ভবিষ্যতে যদি কোনও হামলা চলে তবে তাতে হস্তক্ষেপ করবেনা সেনাবাহিনী। স্থানীয় হিন্দুদের এই ঘটনার ভিডিও করতেও বাঁধা প্রদান করে সেনা। মন্দির হামলার পরিস্থিতিতে সেনার এই বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান,সোমবার হঠাৎ একদল মুসলিম যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করে। তারা মন্দিরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মন্দিরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে এবং চিৎকার করে বলতে শুরু করে এই মন্দির এখানে থাকতে পারবে না এবং আগামীকাল ১২টার মধ্যে আমরা এই মন্দির ভেঙে ফেলব।
এরপরই কট্টরপন্থীদের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব রা খিলক্ষেত থানায় যোগাযোগ করলে, থানার মহা পরিদর্শক মোহাম্মদ আশিকুর রহমান জানান, “আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি, এবং আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমাধানের চেষ্টা করছেন।” তিনি বলেন, “কিছু মানুষ সেখানে গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।পুরো ঘটনাটি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, যেন কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর সেনাবাহিনী, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকাবাসী ও মন্দির কমিটির সঙ্গে আমরা আলাদা আলাদাভাবে আলোচনা করেছি। উভয়পক্ষ আমাদের জানিয়েছে এ বিষয়ে আর কোনও ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না। একইভাবে মন্দির থাকা না থাকার বিষয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষের একটি বৈঠক হয়েছে। মন্দির থাকা না থাকার বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ দেখবে।












Discussion about this post