বিগত কিছু মাসে ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরাতে পুশ ব্যাক প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত। আর সেই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে বহুবার সুর চড়িয়েছে বাংলাদেশের সরকার এবং সেনাবাহিনীও। এবার পাল্টা ভারতকে চাপে ফেলতে কড়া বার্তা বাংলাদেশের। বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঢোকানো হচ্ছে অভিযোগ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু র।
২৬ জুন বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে এক নাগরিক সমাবেশে ভারতের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মন্তব্য করেন শামসুজ্জামান দুদু। ভারতকে বন্ধু ভাবলেও তাদের কাছ থেকে বন্ধুসুলভ আচরণ পাইনি বলে দাবি করে তিনি বলেন, গত পঞ্চাশ-পঞ্চান্ন বছর ধরে ভারতের কাছ থেকে বন্ধুসুলভ আচরণ পায়নি। যেটা পেয়েছি সেটা খুবই মর্মান্তিক। তিস্তা নদীতে জল নেই। জল চুক্তিও নেই। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত চুক্তির কথা বললেও তারা চুক্তি করছে না।
ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠাবেন না, বরং যে স্বৈরাচারী হাসিনাকে আপনারা অবৈধভাবে আতিথিয়তা করে রেখেছেন, তাকেই পুশ-ইন করুন বাংলাদেশে। শুধু শেখ হাসিনা নয়, বাংলাদেশের নাগরিক যারা টাকা চুরি করে আপনার দেশে পালিয়ে আছে তাদেরকেও পুশ-ইন করুন। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা মর্মান্তিক। প্রতিদিন বাংলা ভাষাভাষী ভারতীয় নাগরিকদেরকে বাংলাদেশে পুশ ইন করছে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছেন বাংলায় কথা বললে তাকে বাংলাদেশের নাগরিক বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ জনগণের উদ্দেশে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, সবচেয়ে বড় হত্যাকারী হচ্ছে শেখ হাসিনা। তাকে বাংলাদেশে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এবং ভারত যে অন্যায় করছে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে প্রতিবাদ করতে হবে। প্রতিরোধ করতে হবে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। তাহলে বুঝব, একটা ভালো কাজ করেছেন। তাকে রেখে নিজের নাগরিকদের পুশ করবেন এটা মেনে নেওয়া যায় না।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশের যেসব নাগরিক টাকা চুরি করে ভারতে পালিয়েছে, তাদের পুশ করুন, আপনার দেশের নাগরিকদের নয়। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যাকারী, দেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন, তাকে যদি আপনারা আদর আপ্যায়ন করে রাখেন আর নিজের নাগরিকদের পুশ করেন, সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’
ভারতের উদ্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আরও বলেন, যদি গণতন্ত্র হত্যাকারী ও লুটপাটকারীদের ফেরত না পাঠান, তাহলে ভাবার কোনো কারণ নেই যে ভারতের জন্য খুব ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশের মানুষ একবার জেগে উঠলে ভারতের এই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না।












Discussion about this post