আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশ ছেড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠিক তেমনই সে দলের বহু নেতৃত্ব দেশ ছেড়েছেন। আবার কেউ কেউ বিদেশ যেতে না পারলেও দেশের অন্দরেই লুকিয়ে রয়েছেন প্রাণ ভয়ে। এখন প্রশ্ন উঠছে, আওয়ামী লীগের স্পিকার শিরিন শারমিন এই মুহূর্তে কোথায় রয়েছেন? তাকে নিয়ে বেশ কিছু কথা উঠে আসছে চারিদিকে। বলা হচ্ছে, তিনি নাকি দেশেই রয়েছেন। এমনকি এই সরকার জানে তার আস্তানা। অথচ এখনও পর্যন্ত, সরকারের নাগালে যে যে আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন, তাদের প্রত্যেকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তবে কি তাকে ঘিরে নতুন কোনও পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে সরকারের তরফে? উঠে আসছে প্রশ্ন। তাকে ঘিরে কি রিফাইন আওয়ামী লীগের তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা হবে? আসলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শিরিন শারমিনকে ঘিরে নতুন সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূস।
গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিরিন শারমিন সংসদের একটি গোপন আস্তানায় পালিয়েছিলেন। সেখান থেকে অনেকে বলে থাকেন, সেনানিবাসে লুকিয়ে ছিলেন। তবে পরবর্তীকালে সেনানিবাসের তরফে একটি তালিকা বের করা হয়। সেখানে ৬৫০ এর একটি তালিকা দেওয়া হয়। এটাও জানানো হয়, তারা একটা সময়ের পর চলে গিয়েছে। এমনকি কিছুজনকে আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে এই মুহূর্তে শিরিন শারমিন কোথায় রয়েছেন? তিনি যেখানে রয়েছেন, সেই আস্তানা কি সরকার জানে না? অনেকে বলছেন, নিশ্চিতভাবে সরকার জানে। আর জেনেই সরকার একটি কৌশলের পথে হাঁটছে। কি কৌশল হতে পারে? এদিকে শিরিন শারমিনের পাসপোর্ট নবিকরণ করা হয়েছে। আর সেটা করতে গেলে, তাকে তো লাগবেই। অর্থাৎ সরকারের জ্ঞাতসারে হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে শিরিন শারমিনকে নিয়ে কি পরিকল্পনা সরকারের? যখন আব্দুল হামিদ দেশের বাইরে চলে যান, তখন বিভিন্ন বিষয় উঠে আসছিল। নানা রকম আন্দোলন তৈরি হয়েছিল। আবদুল হামিদের দেশের বাইরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হল। অনেকে বলছেন, আব্দুল হামিদকে গুটি বানিয়ে আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধের কাজটি করা হয়েছে। তাকে বিদেশে যেতে দেওয়া হয়েছে। তাকে বিদেশে যেতে দেওয়ার ফলে একটি অংশের মানুষ আন্দোলন তৈরি করে। এর জেরে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সেরকম একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছিল সরকার। তাতে সফল হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তাহলে সেক্ষেত্রে শিরিন শারমিনকে নিয়ে কি পরিকল্পনা? তাকে দিয়ে কি রিফাইন আওয়ামী লীগের তত্ত্ব খাড়া করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এদিকে এই তত্ত্ব বিশ্বাস করে না আওয়ামী লীগ। তারা শেখ হাসিনার বাইরে কোনও নেতৃত্ব কে দেখতে চায় না। কিন্তু সেটা কতদিন? ইতিমধ্যেই সংবিধান সংশোধনে দু ট্রামের বেশি কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেকে ঐক্যমত হয়েছেন। অর্থাৎ শেখ হাসিনাকে সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেশ চালাতে পারবেন না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেতৃত্ব কে,? উঠছে প্রশ্ন। প্রশ্ন এখানেই, শিরিন শারমিন চৌধুরীকে কি রাখা হয়েছে? তার নেতৃত্বেই কি রিফাইন আওয়ামী লীগ তৈরি করা হবে? কারণ তিনি আওয়ামী লীগের চরম আস্থাভাজনদের মধ্যে একজন। আসলে কোন পথে এগোচ্ছে সরকার? উঠছে প্রশ্ন।












Discussion about this post