বর্তমান বাংলাদেশে আতঙ্কের আরেক নাম মব। দেশের সাধারণ মানুষ থেকে পদাধিকারী, প্রত্যেকেই মব ভায়োলেন্স নিয়ে ভয়ে রয়েছেন। সন্ধের পর ঘরের ভিতরেও মানুষ নিরাপত্তা বোধ করছেন না। এই সময় সরকার এবং তার প্রশাসনের হাল ধরা উচিত। কিন্তু সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, এগুলি মব নয়, প্রেসার গ্রুপ। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিবের কয়েকদিন আগেই মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেসবুকে একটি ভয়ঙ্কর পোস্ট দিয়েছেন। সেই পোস্ট দেখলে প্রথমেই বোঝা যায়, মবকে জাস্টিফাই করছেন তিনি। তাহলে কি সরকারের সমর্থনেই মব চলছে? অন্তত উপদেষ্টার এমন পোস্টের পরে স্বাভাবিকভাবেই উঠছে এমন প্রশ্ন।
মাহফুজা আলম তার ফেসবুক পোস্টে লিখছেন, জুলাইয়ের বিপ্লবী ছাত্র জনতা মব নয়। মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে প্রয়োজন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার আইনি শাসন কার্যকর এবং জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্র। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এগুলি কি আদেও আইনের শাসন? ছাত্রনেতারা যা যা করছেন, তার মধ্যে কি কোন আইনের শাসন রয়েছে? গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনের শুরুটাকে অনেকে বাহবা জানিয়েছিল। শেখ হাসিনার জমানার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জিভূত ক্ষোভ, যেগুলো মানুষ সংগঠিত হয়ে একটি আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল কোটা বিশ্ব জুড়ে। এমনকি সেই ক্ষোভের সঞ্চার এমন জায়গায় পৌঁছলো, যার সরকার ফেলার ক্ষমতা ছিল। সেই সরকার পরেও গেল। কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে যে যে কর্মকাণ্ড করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা বা ক্ষমতায় আসীন হওয়া উপদেষ্টারা, সেটাকে আইনের শাসন বলতে নারাজ আন্তর্জাতিক ও ওয়াকিবাকলমহল। বরং তারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে যা খুশি তাই করছে। মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে রাখতে চাইছে। আর সেটা কি সমর্থন করছেন মাহফুজ আলমরা। তিনি আরও লেখেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ‘মব ভায়োলেন্স’ শুরু হয়েছিল বিহারি জনগোষ্ঠীর ওপর হামলার মধ্য দিয়ে। এরপর মব টার্গেট হয়েছে ছাত্র ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধা অথচ মুজিববাদবিরোধীদের ওপর। বিগত ৫৩ বছরে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর মব ভায়োলেন্স হয়েছে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ ইন্ধনে। যদি মবের সংজ্ঞা প্রসারিত করে দেখা হয়, তাহলে ‘জনতার আদালত’, জনতার মঞ্চ ৯৬’, ‘২৮ অক্টোবর’, এমনকি ‘শাহবাগ আন্দোলন’ও মব জাস্টিস বা মব ভায়োলেন্সের আওতায় পড়ে যায়। মাহফুজ আলম তার পোস্টে দাবি করেন, যদি জুলাইয়ের পরে সত্যিকার অর্থেই মব ভায়োলেন্স সংঘটিত হতো, তাহলে এত ‘সুশীলতা’ ও ‘এপলজেটিক’ ভাষা ব্যবহার করা হতো না। এমনকি তিনি অদ্ভুত একটি কথা বলে জানান, গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক ও সামাজিক ফ্যাসিবাদের অংশীদার না হয়েও, মব ভায়োলেন্সের দায় নিতে হচ্ছে জুলাইয়ের বিপ্লবী ছাত্র-জনতাকে।
অনেকে বলছেন, যারা মবের বিরুদ্ধে কথা বলছে, তাদের যেন হুমকি দিচ্ছেন এই পোস্টের মাধ্যমে। এর আগেও তিনি স্পষ্টভাবে গণমাধ্যমকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, কোনও কোনও গণমাধ্যম গণঅভ্যুত্থান কে জুলায় আন্দোলন বলে। আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ বলে না। অর্থাৎ গণমাধ্যম কি কি লিখবে, সেটা যেন তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন। এবং তিনি বলেছিলেন, এর দায়-দায়িত্ব যদি জুলাই শহীদ পরিবাররা নেয়, তাহলে কি করার থাকবে! অর্থাৎ জুলাইয়ের শহীদদের পুঁজি করে তিনি এই ধরনের কথা বলছেন। এক প্রকার হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু এখনো সমাজে প্রতিবাদী কন্ঠ রয়েছে, যারা মাহফুজ আলমদের এমন হুমকির কাছে মাথা নত করেনি, আর করবে না। দেশ বাঁচাতে প্রশাসন সরকার পিছিয়ে গেলেও, এখনো মানুষ সরব হবেই। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post