বাংলাদেশে কি কোনও বিদেশী শক্তির অস্ত্রের কারখানা তৈরি হচ্ছে? এমন একটি খবর উঠে এসেছে। যদি এই ঘটনা সত্যি হয়, এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে থাকে তবে পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তলানিতে পৌঁছবে বাংলাদেশের। তবে কি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নিচ্ছে ইউনূসের দেশ? টার্গেট কি ভারত? নাকি বাংলাদেশে মৌলবাদী উত্থানের আত্মপ্রকাশের নজির এই খবর? আসলে কি খবর সামনে আসছে?
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর করা হয়েছে, বাংলাদেশে বহির্বিশ্বে কোনও দেশ অস্ত্র কারখানা তৈরির প্রক্রিয়াতে আছে কিনা, এমন বিষয়ে খবর উঠে আসছে। চট্টগ্রামে অস্ত্র কারখানা নির্মাণে সক্রিয় তুরস্ক। তবে কি টার্গেট করা হচ্ছে ভারতকে? উঠে আসছে প্রশ্ন। কারণ এর আগে দেখা গিয়েছে, তুরস্ক পাকিস্তানকে সাহায্য করেছে। এবার কি তবে বাংলাদেশকে? বলা হচ্ছে, অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময় ভারতের বিরুদ্ধে ঢালাও ব্যবহার করেছিল পাক সেনা। এমনকি বাংলাদেশে ড্রোন বিক্রি করছে তুরস্ক সেনা, তেমন খবরও উঠে এসেছে। এমনকি তুরস্কের প্রতিনিধি দল নাকি বাংলাদেশে যাচ্ছে পরিস্থিতি বিবেচনা করতে। এমনকি এই খবর উঠে আসছে, যেখানে জানা যাচ্ছে, শেখ হাসিনার আমল থেকেই তাদের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আওয়ামীলীগের শাসন আমল থেকেই বাংলাদেশ অস্ত্র কিনেছিল। এদিকে দেখা গিয়েছে, যখন হাসিনা সরকারের পতন ঘটল, তখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের সঙ্গে যেমন মিত্রীভাব বাড়িয়েছে, তেমন তুরস্কের সঙ্গে নৈকট্য বাড়িয়েছে। এমনকি জানান যায়, টিআরজি-৩০০ ‘মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম’ কিনেছিল বাংলাদেশ সেনা। বাংলাদেশ নৌসেনার জন্য তুরস্ক থেকে এআরইএস-১৫০ দ্রুতগতির নৌযান কেনার চুক্তি হয়েছিল। চলতি বছরের গোড়ায় ২৬টি তুলপার লাইট ট্যাঙ্ক কেনার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতাও হয়েছে দু’দেশের।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থার এসএসবি প্রধান হালুক গর্গুনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের আট দিনের বাংলাদেশ সফর হতে পারে। এমনকি জানা যাচ্ছে, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা এবং তুর্কি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স স্থাপন। তবে অনেকেই দাবি করতে পারেন, এগুলি সামরিক ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য। কিন্তু এটার মূল উদ্দেশ্য নয়। ভারতের উপর চাপ তৈরি করাই এর আসল উদ্দেশ্য।
তবে এমন খবর সামনে এসেছে, যেখানে জানা যাচ্ছে, অপারেশ সিঁদুর পরবর্তী পাকিস্তান সেনাকে সাহায্যে ভারতে বিনিয়োগকারী তুরস্কের কয়েকটি বাণিজ্যিক সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ভারত। অর্থাৎ তুরস্কের থেকে বাংলাদেশ যেমন ড্রোন থেকে অস্ত্রশস্ত্র কিনছে, অন্যদিকে বাংলাদেশে একটি প্রতিরক্ষা শিল্প তৈরি করতে চাইছে তুরস্ক। যেটা ভারতের জন্য হুমকি হতে পারে। এমনকি কূটনৈতিক মহল বলছে, ভারতের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপের জন্য এমন উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে।
সেখান থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এমনিতেই ভারতের সম্পর্ক তলানিতে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নিলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ হবে। তবে হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না নিয়া দিল্লিও। এখন দেখার, শেষমেষ কি সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।












Discussion about this post