জানা যাচ্ছে, পাকিস্তান একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। সেটা নিয়ে এখন চর্চা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যে জলের বিরাট বড় সংকট দেখা যাচ্ছে। যেটার সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে সিন্ধু জল চুক্তি। পাকিস্তানের কাছে এই সিন্ধু জল চুক্তি এতটা গুরুত্ব কেন? আসলে কোনও দেশের কৃষিকাজ যদি ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জলের উপর নির্ভরশীল হয়, আর সেই জল যদি না পাওয়া যায়, তবে তো সংকট তৈরি হবেই। এমনকি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এবং জিডিপির উপরও মারাত্বক প্রভাব পড়বে। এরকম একটি ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। যার ফলে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে পাকিস্তান। তবে কি ফের যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে পাকিস্তান?
জানা যাচ্ছে, এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি যে ছিল, সেটা ভারত স্থগিত করেছে। যে কারণে পাকিস্তানে জল সংকট দেখা গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিন্ধু নদীতে জল না আসার জন্য পাকিস্তানের ১৩.৩ শতাংশ ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এবং গোটা পাকিস্তানের মধ্যে পাঞ্জাব প্রদেশে বেশি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি ভারত পাকিস্তানের উপর অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছে। আর তাতেই পাকিস্তান ভারতের উপর আক্রমণ চালায়। পাল্টা ভারতও চুপ থাকেনি। আর এই পরিস্থিতিতে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সিন্ধু জল চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে।
জানা যায়, ১৯৬০ সালে সিন্ধু জল চুক্তি হয়। যেটি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মধ্যস্থতায় এটি হয়েছে। যেখানে বলা হয়, পশ্চিম দিকে যে সমস্ত নদীগুলি রয়েছে যেমন সিন্ধু, ঝিলম, চেনাবের জল বেশিরভাগটাই পাকিস্তান ব্যবহার করবে। ভারত ও ব্যবহার করতে পারে তবে সেটা সীমিত পরিমাণে। অন্যদিকে পূর্ব দিকের নদীগুলি যেমন রবি, বিপাশা, শতুদ্র …. এই নদীগুলির জল ভারত ব্যবহার করবে। তবে পেহেলগামের ঘটনার পর ভারত প্রতিশোধ হিসেবে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেয়।
অন্যদিকে চেনাব নদীর উপর চারটি বড় বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। পাকাল দুল, কিরু, কোয়ার, রটল। যেগুলি সিন্ধু জল চুক্তির পর তৈরি করা হয়েছিল। যাতে কোনভাবেই এই চুক্তি ভঙ্গ না হয়। তবে সেই জল চুক্তি বাতিল করতেই পাকিস্তানের কৃষিকাজের উপর প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে জুন মাসে বিপদে পড়েছে পাকিস্তান। কারণ জুন মাস হল পাকিস্তানের কাছে খরিফ ফসলের মরশুম। ধান, ভুট্টা, তুলো থেকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কৃষি কাজের রোপন করা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান একটি রিপোর্ট পেশ করেছে, যেখানে বলা হচ্ছে, ১৩ থেকে ২১ শতাংশ নদী প্রবাহ হ্রাস পেয়েছে। ৫ জুন ভারত নাকি ১২৪,৫০০ কিউসেক জল ছেড়েছে। যেখানে ২০২৪ সালে জল ছাড়া হয়েছে ১৪৪, ০০০ কিউসেক। এবছর জল কম ছাড়ায় পাঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে জল সংকট দেখা যায়। এর ছেড়ে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ব্যাপকভাবে প্রভাব পড়ছে। এমনকি মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে সিন্ধু জলচক্তি নিয়ে পাকিস্তান চারবার ভারতকে চিঠি লিখেছে। তবে ভারত কোনও উত্তর দেয়নি। হয়তো পাকিস্তান বিশ্ব ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে পারে। এমনকি পাকিস্তানের তরফে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সমান হিসাবে দেখছে। তবে এখন দেখার, শেষমেষ ভারতের তরফে কি পদক্ষেপ করা হয়।












Discussion about this post