গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে থাকা বাংলাদেশ ভারত বিদ্বেষ বাড়িয়েছে। এমনকি সরকারের উপদেষ্টারা ভারতকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে চলেছে। এই পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসছে। সম্প্রতি পেহেলগাঁওয়ের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত যেমন পাকিস্তানের ওপর চড়াও হয়েছিল, সিন্ধু জলচুক্তি বাতিল করে দিয়েছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের উপর চড়াও হতে চলেছে নাকি ভারত। চাইলে গঙ্গা চুক্তি নাকি বাতিল করে দিতে পারে ভারত। অনেকে আবার বলছেন, গঙ্গা চুক্তি পরিবর্তনের পথে। বলছেন কূটনৈতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা। তবে কি এবার শুকিয়ে মরবে বাংলাদেশ?
যখন ভারতের অপারেশন সিঁদুর চলছিল, তখন বাংলাদেশ বলেছিল, চিন চাইলে ভারতের পূর্ব দিকটি দখল করে নিতে পারে। আর সেই কারণেই কি ভারত বাংলাদেশের উপর কড়া হতে চলেছে? তাহলে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ কি জল পাবে না? ৩০ বছরের চুক্তি শেষ হতে চলেছে ইতিমধ্যেই। ১৯৯৬ থেকে হওয়া চুক্তি ২০২৬ সালে এসে শেষ হতে চলেছে।
গঙ্গা এবং যমুনা নদী গ্লেসিয়ার থেকে এসে এলাহাবাদে মিলিত হচ্ছে। এরপর বাংলাতে প্রবেশ করছে। বাংলা থেকে এই নদীটি দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশ ও কলকাতার দিকে গিয়েছে। এদিকে সমতলের জন্য নদীতে প্রচুর পরিমানে পলিমাটি জমে। যার ফলে বড় বড় জাহাজ ঢুকতে পারছে না। এদিকে শ্যামা প্রসাদ পোর্ট এ বিদেশ থেকে বড় বড় জাহাজ আসে। আর এখানেই সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর থেকে বেরোনোর সমাধান রয়েছে ২টো। মেশিন লাগিয়ে গঙ্গার পলি মাটি তুলে নিতে হবে, নাহলে জলকে দ্রুত ছেড়ে দিয়ে জলের তলায় জমা কাঁকর, মাটি সরে যাবে। আর সেই কারণেই পশ্চিমবঙ্গে তৈরি করা হয়েছে ফরাক্কা ড্যাম। ফরাক্কা ব্রিজ থেকে একটি নদী হুগলির দিকে, আর একটি দিকে গিয়ে নাম হল পদ্মা এবং ব্রহ্মপুত্র নদী যেটা আসাম থেকে বাংলাদেশের প্রবেশ করা যমুনা পদ্মার সঙ্গে মেশে। এবং বাংলাদেশের আরও একটি নদী মেঘনা পদ্মার সঙ্গে মিশেছে। আসলে ১৯৭৫ সালে ১০৯ টি দেশ নিয়ে তৈরি হয় ফারাক্কা ব্রিজ। যেটা তৈরি করেছে হিন্দুস্থান কোম্পানি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের জয়েন্ট রিভার কমিশন তৈরি হল। এরপর আরও একবার বৈঠকে বসেছিল। এর ফলে বহুবার গঙ্গা চুক্তি আমেদ হয়েছিল। শেষ যে চুক্তি টি হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, সেই সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শেখ হাসিনা। তখন ওই চুক্তিতে বলা হয়েছিল, যদি ফরাক্কা ব্যারেজে ৭০ হাজার কম জল থাকে, তাহলে ৫০ শতাংশ ভারত নেবে এবং ৫০ শতাংশ বাংলাদেশ নেবে।
এমনকি বলা হয়েছিল, যদি ৭০ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক জল স্টর হয়ে থাকে তবে বাংলাদেশেকে দেওয়া হবে ৩৫ হাজার কিউসেক জল। এবং ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক জল। এবার সেই চুক্তি শেষ হয়ে চলেছে ২০২৬ সালে। কিন্তু যেভাবে বাংলাদেশের তরফ থেকে ভারতবিদ্বেষ কথাবার্তা উঠে আসছে, সেখানে দাঁড়িয়ে ভারত আদেও চুক্তি নবীকরণ করে কিনা সেটাই দেখার












Discussion about this post