যে রাজনৈতিক দল সদ্য বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নিয়েছে, তাঁদের নেতাদের নানান হুঙ্কারে কাঁপছে বাংলাদেশের মাটি। অন্তত সেরকমই মনে করছেন সদ্য গজিয়ে ওঠা এই রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র আহবায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি ক্রমাগত ভারতকে হুমকি দিয়ে চলেছেন। দলের অন্য এক শীর্ষ নেতা তো আবার চিন-আমেরিকাকেও ছাড়ছেন না হুঁশিয়ারি দিতে। তাঁদের ভাবখানা এমন, যে তাঁরাই বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী, এবং আগামীদিনে তাঁরাই বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠন করবে। কিন্তু জুলাই বিপ্লব বা আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত এক বছরে পরিস্থিতি যে অনেকটা পাল্টেছে, সেটাই হয়তো বুঝতে পারছে না এনসিপি নেতারা। না হলে আরেকটি মেটিকুলাস ডিজাইন বা গভীর ষড়যন্ত্র তাঁরা রচনা করে ফেলেছেন আরও দীর্ঘসময় ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য। যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এনসিপি নেতাদের কটাক্ষ করতেও ছাড়ছেন না। তাঁদের বক্তব্য, বাংলাদেশের মাঠে নতুন “খেলোয়াড়” এসেছেন নাহিদ ইসলাম।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের থেকেই জন্ম নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির। আর এই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যে হেতু গত বছর জুলাই আগস্টের শেখ হাসিনা হঠাও আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সে হেতু তাঁরা এই মুহূর্তে ক্ষমতার অলিন্দে বিরাজ করছেন। সেই কারণেই তাঁরা ধরা কে সরা জ্ঞান করছিলেন। কিন্তু লন্ডনে মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার মধ্যে বৈঠকের পর বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে নিয়ে আসা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। যা নিয়ে যথেষ্ট চাপে পড়েছে এনসিপি। কারণ, রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁদের পায়ের তলার মাটি এখনও পক্ত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের আশঙ্কা, নির্বাচন হলে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে জুলাই সনদ ও সংবিধান পরিবর্তানের আকাঙ্খা আর পূর্ণ হবে না। সেই কারণেই তাঁরা জুলাই পদযাত্রা করছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। রবিবার পঞ্চগড় এলাকায় ছিল জুলাই পদযাত্রা, উপস্থিত ছিলেন এনসিপি-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে এক জনসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে নাহিদ বলেন, ‘পাঁচ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন, এবার আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের পুনর্গঠন। ৫ আগস্ট আমাদের লক্ষ্য ছিল গণভবন, এবার আমাদের লক্ষ্য হলো জাতীয় সংসদ ভবন। আমরা গণভবন জয় করেছি, এবার জাতীয় সংসদকেও আমরা জয় করবো।
অর্থাৎ, নাহিদ ইসলাম পরিস্কার বললেন, যে জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ ও সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। শেখ হাসিনার বিচার সম্পন্ন করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, নাহিদ ইসলামরা এই দাবি করছেন কিসের ভিত্তিতে। কারণ, তাঁরা যে কর্মসূচির ডাক দিচ্ছেন, সেখানে মেরে কেটে কয়েক হাজার বা কোথাও কয়েকশো মানুষ জড়ো হচ্ছেন। অর্থাৎ, তাঁদের সমর্থন কমে আসছে। এর পরেও যদি তাঁরা দাবি করে থাকেন যে আগামী নির্বাচনে তাঁরাই সংসদ দখল করবেন, তাহলে খেলাটা অন্য কিছু। উল্লেখ্য, এই সভা থেকে নাহিদের হুঙ্কার, আপনারা প্রস্তুত হোন, আগামী ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে আমরা জুলাই ঘোষণাপত্র আদায় করে ছাড়বো।
অন্যদিকে, নাহিদ আরেকটি পথসভায় কার্যত ভারতকেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গত ৫০ বছরে কোনো সরকার সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেনি। এখনো পঞ্চগড়ের সীমান্তে গুলি করে মানুষ হত্যা করা হচ্ছে। এখন সীমান্তে পুশ ইন করা হচ্ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এটা হাসিনার বাংলাদেশ নয়, ছাত্র-জনতার বাংলাদেশ। যদি পাঠাতেই হয়, হাসিনা ও তাঁর দোসরদের পাঠান। আমরা তাঁদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসব। কোনও ভাবেই এই পুশ ইন আর মেনে নেওয়া হবে না।
একদিকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ও বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান পাল্টে ফেলার হুমকি। অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য করা। সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে, নাহিদ ইসলামরা নতুন কোনও ষড়ষন্ত্র শুরু করেছেন তাঁরা।












Discussion about this post