আরও বিপাকে পড়ল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অন্দরে সক্রিয় হচ্ছে টিটিপি বা তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, এই জেহাদী সংগঠনটি পাকিস্তানের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর পর বাংলাদেশ নিয়ে পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যেই তাদের সদস্য সংখ্যা সংগ্রহ করছে বাংলাদেশের ভিতর থেকে বলে খবর। এদিকে উদ্বেগে রয়েছে ভারতও। কারণ ভারত বাংলাদেশের সীমান্ত ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। তাই নিরপত্তা বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এদিকে জানা যাচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা ওয়াকিবহাল নয়। ফলে আশঙ্কা আরও তীব্র হচ্ছে। ইউনূসের বাংলাদেশে পাকিস্তানি তালিবানি জেহাদী ঠেক। দেশে জঙ্গি সংখ্যা বাড়ছে, এদিকে কিছুই জানে না ঢাকা?
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে ২ জন টিটিপি সদস্য নাকি আফগানিস্থান গিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে সেনাবাহিনীর দ্বারা নিহত হন। বাকি একজনকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী। এছাড়াও খবর, জুলাই মাসে এটিইউ গ্রেফতার করেছে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের প্রাক্তন নেতা শামিন মাহফুজকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরবর্তীকালে জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়া গড়ে তোলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে বিস্ফোরক আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে।
শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগেই মালেশিয়ার পুলিশ ৩৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করেছিল। অর্থাৎ তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং তাদের যোগসূত্র গোটা বিশ্ব জুড়ে জাল বিস্তার করছে।আইএস-এর সঙ্গে জড়িত ৩৬ জনকে গ্রেফতার করা হচ্ছে মালয়েশিয়া পুলিশের তরফে। যার মধ্যে ৩৫ জনই বাংলাদেশি। ইতিমধ্যেই ৩ জনকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার তরফে ইন্টারপোলের সাহায্যে এই বাংলাদেশী জঙ্গিদের আন্তর্জাতিক সংযোগের সম্পূর্ণ তথ্য সামনে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এছাড়াও ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশে জঙ্গি দমনে জোরদার করা হয়েছিল। কিন্তু টিটিপি র সক্রিয়তার প্রমাণ মিলতেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনিতেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তারমধ্যে দেশের জঙ্গি কার্যকলাপ ও জঙ্গি এবং জেহাদী সংগঠনগুলি গোটা দক্ষিণ এশিয়াতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যেটা বিভিন্ন দেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশে টিটিপি সদস্য সংখ্যা কত, তাই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ভারতে। অথচ বাংলাদেশের সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকরা বলছেন, দেশে নাকি কোনও জঙ্গি নেই। সেটা আরও চিন্তার। তার কারণ দেশের জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়লে সীমান্তবর্তী এলাকাতে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করতে পরামর্শ দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Discussion about this post