২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বঙ্গ সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
শুক্রবার দুর্গাপুরের নেহেরু স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা ছিল। হাজার হাজার মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছে। আর সেই মঞ্চ থেকে যেমন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি, ঠিক একইভাবে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে বড় পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। যা রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে পূরণ করবে। অনেকেই বলছেন, মোদীর এই বার্তার পর খানিকটা বেকায়দায় পড়েছে শাসক শিবির।
এদিন নরেন্দ্র মোদী খাটি বাংলা ভাষায় বক্তব্য দিতে শুরু করলেন। তিনি বলেন, বড়রা আমার প্রণাম নেবেন। ছোটরা ভালোবাসা। মা দুর্গা ও মা কালীর নাম নিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মানুষকে। সরকারি অনুষ্ঠানে ৫৪০০ কোটি টাকার শিলান্যাস করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি এদিন পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যে কিভাবে বিজেপি শাসিত সরকার উন্নয়ন করে চলেছে, তারই খতিয়ান দিলেন। তিনি বলেন, কোটি কোটি টয়লেট। ঘিরে ঘিরে নল কল। হাজার কিমি সড়ক। এয়ারপোর্ট। বাংলার রেল পরিষেবা উন্নত হয়েছে। কলকাতার মেট্রো রেলের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। রাস্তা চওড়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সমস্ত সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, পূর্ব ভারতের ছয় রাজ্যেই গ্যাস লাইন পাতা হয়েছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে। ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে গ্যাস। ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ বাড়িতে পৌঁছে যাবে গ্যাস। এমনকি দুর্গাপুরে একাধিক প্রকল্প চালু করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বাংলার মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত হবে বাংলা।
প্রধানমন্ত্রী এদিন দুর্গাপুরের মঞ্চ থেকে বলেন, তৃণমূল সরকার বাংলার বিকাশের জন্য দেওয়াল তুলে দাঁড়িয়েছে। যেদিন দেওয়াল ভেঙে পড়বে, সেদিন বিকাশের নতুন ধারা শুরু হবে। তৃণমূল সরকার গেলেই আসল পরিবর্তন আসবে। এমনকি তিনি জানান, ত্রিপুরা কি ছিল, আজ নতুন গতি দিচ্ছে বিজেপি। ওড়িশাও খুব তাড়াতাড়ি বিকশিত রাজ্যের মধ্যে জায়গা করে নেবে। একবার সুযোগ দিন, একবার এমন সরকার বানান, যা কামদার এবং ইমানদার হবে। বিকশিত বাংলা মোদির গ্যারান্টি।
অর্থাৎ ২৬ এর ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। যে লক্ষ্য এদিন স্থির করে দেন প্রধানমন্ত্রী, তাতে বঙ্গ বিজেপিকে খানিকটা যে নতুন করে বল পেল, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, সত্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি বদল হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতি পদে বসানো হয়েছে। মনে করা হয়েছে, সেটা দিয়েই বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। এবার তার ওপর প্রধানমন্ত্রীর সভা। ধীরে ধীরে যে বাংলাতে বিজেপি নিজেদের জমি শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, সেটাই প্রমাণ করছে।












Discussion about this post