গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। বেসরকারি সূত্রে আরও বেশি। যদিও সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত হতাহতের সম্পর্কে কিছুই জানায়নি। তবে সেখানেই কতটা অন্যায় হয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে, সেটাই সবথেকে বিবেচ্য বিষয়। এমনকি দেহ বলি ময়নাতদন্ত ছাড়ায় সৎকার হওয়াতে সুষ্ঠ বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি উর্দিধারীদের দেখা যায়, মৃতদেহ গুলিকে বুটের নিচে পিষে দিচ্ছে। এমন নৃশংস ঘটনা বাংলাদেশে কিভাবে ঘটলো? হতবাক হচ্ছেন বহু মানুষ। পাঁচটি পরিবার বিচার চাইলেও, শেষমেষ তারা বিচার পাবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকারই করছে না, গোপালগঞ্জে কোনও মানুষ মারা গিয়েছেন। সরকার শুধু দেখছে, কিংস পার্টি এনসিপির মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। এদিকে গোপালগঞ্জের স্বজন হারানো ব্যথার মাঝে দেখা যাচ্ছে, নতুন আতঙ্ক। চালানো হচ্ছে যৌথ বাহিনীর অভিযান। ধরপাকড় চলছে, চলছে গ্রেফতার। পুরো গোপালগঞ্জ হয়ে পড়েছে পুরুষশূন্য। খুনের বিচার তো দূরের কথা, উল্টে তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রশাসন।
বাংলাদেশের গোপালগঞ্জের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের ছবি এই মুহূর্তে নানা মাধ্যমে ভেসে আসছে। টুঙ্গিপাড়ায় পৌর এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লা বাড়ির মহম্মদ সোহেল মোল্লা নিহতদের মধ্যে একজন। তার একটি মোবাইলের দোকান ছিল। তিনি সেদিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মোবাইলে ধারণ করতে গেলে নিহত হন। পরিবার জানাচ্ছে, সোহেল মোল্লা কোনও রাজনৈতিক দল করতেন না।
গোপালগঞ্জের ঘটনায় আরো একজন নিহত ইমন তালুকদার। তার বয়স ২৪ বছর। তিনি ছিলেন তার পরিবারে একমাত্র আয়ের উৎস। এই পরিবার গুলি বিচার চাইছে। কিন্তু বিচার দেবে কে? কারণ মহম্মদ ইউনূস তো গদি বাঁচাতে ব্যস্ত। এমনকি মৃতদেহগুলিকে ময়নাতদন্ত না করেই সৎকার করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারগুলির।
এমনকি নিহত রমজান কাজির দেহকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন, সেই ছবি সোশাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে পাঁচজনের নিহতদের মধ্যে একজনের রাজনৈতিক সমঝোতা খুঁজে পাওয়া গেছে। তিনি হলেন দীপ্ত সাহা। অন্যদিকে গোপালগঞ্জের ঘটনায় শেখ নিহতের নাম রমজান মুন্সী। তিনি পেশায় রিকশাচালক। তার গায়ে গুলি লাগার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু ঘটে। বিচারের বদলে গোটা গোপালগঞ্জকে পুরুষ শূন্য করতে ব্যস্ত ইউনূসের প্রশাসন। চলছে ধরপাকড় এবং গ্রেফতার। এটাই প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, শাসক যন্ত্রে আর কতদিন বাংলাদেশের মানুষকে পৃষ্ঠপোষকতায় প্রাণ হারাতে হবে? যে সেনাবাহিনী দেশের ছাত্রদের ওপর গুলি চালাবে না বলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হল, সেই সেনাবাহিনী কেন সামান্য বিক্ষোভ ঠেকাতে গুলি চালালো? প্রশ্ন অনেক। কিন্তু উত্তর দাতারা এখনও নিশ্চুপ।












Discussion about this post