সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে, ততই আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ভয় চেপে বসছে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-সমন্বয়কদের মনে। গত ১৬ জুলাই বাংলাদেশের গোপালগঞ্জে এক কর্মসূচিতে গিয়ে এনসিপি নেতারা কার্যত মাথা বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছিলেন। কয়েক মিনিট আগে যে গোপালগঞ্জের মাটিতে দাঁড়িয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদু্ল্লাহ চোখ বড় বড় করে আঙুল উঁচিয়ে দাবি করেছিলেন, আমি কাউকে ভয় পাই না। আমি বলবো, বলতেই থাকবো।
কিন্তু সেই কিছুক্ষণ পরই সেই হাসনাত আবদুল্লাহ জনতার তাড়া খেয়ে প্রাণ ভয়ে দৌঁড়ে গিয়ে লুকোলেন সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ির ভিতর। তাঁর সঙ্গে সারজিস বা অন্যান্য এনসিপি নেতারাও সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়িতে চড়ে নিরাপদে গোপালগঞ্জ ছাড়েন। যদিও এনসিপি নেতারা এলাকা ছাড়ার পর গোপালগঞ্জে নিরীহ গ্রামবাসী এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় সেনাবাহিনী। যা নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে। কিন্তু গোপালগঞ্জের ঘটনার পর এনসিপির বীরপূঙ্গব নেতা হাসনাতের গলায় এখন সুর নরম। তিনি আওয়ামী লীগকে বা শেখ হাসিনাকে এখনও হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন, তবে নীচু গলায়, সুর চড়িয়ে নয়। বৃহস্পতিবার এনসিপি নেতারা দুটি জায়গায় তাঁদের কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রথমটি চাঁদপুর এবং দ্বিতীয়টি কুমিল্লা। চাঁদপুরে দাঁড়িয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দিন শেষে আমাদেরকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। গতকাল আপনারা দেখেছেন ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ লাশের ওপর দিয়ে রাজনীতি করার অপচেষ্টা করেছে। তাঁর বক্তব্যের তির ছিল ঢাকার উত্তরায় বিমান দুর্ঘটনার দিকে। সেখানে নাকি আওয়ামী কর্মী সমর্থকরা আনন্দ করতে গিয়েছিল, এমনই ইঙ্গিত এনসিপি নেতার। অন্যদিকে কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ ফিরলে এনসিপির ৪ কোটি মানুষকে মেরে ফেলবে! তাই আওয়ামী যদি আবারও ফেরার চেষ্টা করে তাহলে এই শোক শক্তিতে পরিণত হয়ে তাদের ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকেও বন্ধ করে দিতে হবে। এর জন্য সকলকে একজোট হওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
কুমিল্লাতেই তাঁর মুখে শোনা গেল এক অদ্ভুত মন্তব্য। তিনি বলেন, আপনারা বিএনপি করুন, জামাত করুন আপত্তি নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে আমরা মেনে নেব না।
এনসিপি নেতাদের মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহকে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ধরা হয়। তিনি চাঁদপুরে দাঁড়িয়ে প্রথমবার মুহাম্মদ ইউনূসের সমালোচনা করেছেন। আবার কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশবাসীকে বলছেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসলে চার কোটি আন্দোলনকারীকে মেরে ফেলবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, হাসনাত কিভাবে জানলেন যে বাংলাদেশে এনসিপির চার কোটি সমর্থক রয়েছে? তাঁদের আরও প্রশ্ন, যদি ঢাকার উত্তরায় বিমান দূর্ঘটনাস্থলে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কেউ এসে আনন্দও করেন, তাহলে তাঁদের ধরা হল না কেন? বিশ্লেষকদের কটাক্ষ, আসলে যত সময় এগোচ্ছে, ততই হাসনাত, সারজিসদের মনে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ভয় চেপে বসছেন। এমনিতেই শেখ হাসিনাকে আয়রন লেডি বলা হয় তাঁর কড়া হাতে দেশ শাসন করার জন্য। বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে এখনও বহু হাসিনা বিরোধী নেতা আড়ালে আবডালে বলেন, কোনও ভাবে যদি হাসিনা ফিরে আসেন তাহলে অনেকেরই লুঙ্গি খুলে যাবে। অনেকেরই হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যাবে তৎক্ষণাৎ। এনসিপি নেতারাও বুঝতে পারছেন, এ ভাবে আওয়ামী লীগকে ঠেকানো সম্ভব নয়। শুধু গোপালগঞ্জ নয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগের হয়ে প্রচারের খবর আসছে, মিছিলের খবর আসছে। মানুষ প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে শুরু করেছেন। যা দেখে এবার ভয় পেতে শুরু করেছেন হাসনাত, সারজিস, নাহিদরা। তাই ভিক্টিম কার্ড খেলতে চেয়ে আওয়ামী লীগ ফিরলে এনসিপির ৪ কোটি মানুষকে মেরে ফেলবে বলে আর্তনাদ শুরু করেছেন এনসিপি নেতারা। যদিও কেউ কেউ বলছেন, “ইয়ে ডর আচ্ছা লাগা”।












Discussion about this post