বাংলাদেশের এই মুহূর্তে যে হাওয়া বইছে, তাতে মনে হচ্ছে মহম্মদ ইউনূসের দিন ফুরিয়ে আসছে। কারণ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিকে দিকে বিক্ষোভ চলছে। ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে মানুষ সংগঠিত হতে শুরু করেছে। এবার মনে করা হচ্ছে, তার উপদেষ্টারাও সরে যেতে শুরু করেছেন। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, প্রধান উপদেষ্টা প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং শিক্ষা উপদেষ্টাকে বিগত কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে না। আরও বেশি করে অবাক করছে, যেখানে দেশে একের পর গুরুত্বপুর্ণ ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের কোনও বক্তব্য নেই। এর আগে কিছু একটা ঘটলেই মানুষের সামনে এসে বক্তব্য রাখতেন তারা। তাই প্রশ্ন তো উঠেই যায়। ফলে প্রধান উপদেষ্টা যে চাপে পড়ে গিয়েছে, সেটা বলাই বাহুল্য। এমনকি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনাকে যদি ভারত না জায়গা দিত, তার অনেক জায়গা ছিল আশ্রয় নেওয়ার। কিন্তু ইউনূসকে পাকিস্তান ছাড়া কেউ আশ্রয় দিতে নারাজ। ফলে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে।
এদিকে খলিলুর রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়েছেন। বলা হচ্ছে, তিনি নাকি শুল্ক নিয়ে আলোচনা করতেই গিয়েছেন। কিন্তু আসলে তিনি কেন গিয়েছেন, কি করতে গিয়েছেন, তাই নিয়ে চলছে সমালোচনা। এদিকে বাংলাদেশে বিমান বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্র থেকে তাদের পরিবার। পরিস্থিতি সাময়িক নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ক্ষোভের সঞ্চার যে কোনও মুহূর্তে ঘটতে পারে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ঠিক যেমন শেখ হাসিনার সময় হয়েছিল। তিনি প্রথমে ছাত্রদের আন্দোলনকে খুব একটা গুরুত্ব সহকারে দেখেননি। ফলে পরিস্থিতি তার হাতের বাইরে চলে যায়। এমনকি মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দেশ ছাড়তে হয় তাকে। এবার সেই একই কাজ করছেন প্রধান উপদেষ্টা। বলছে ওয়াকিবহাল মহল। তিনি বিপদে পড়লেই কয়েকটি টোটকা ব্যবহার করেন। মহম্মদ ইউনূস মনে করেন, এগুলি করে পরিস্থিতি আয়ত্তে নিয়ে আসা যাবে। প্রথমেই তিনি রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তাতে অন্তত কিছু মানুষকে ঠান্ডা রাখার যায়। আর একটি হল নির্বাচনের রব তুলে দেওয়া। এবারও তিনি জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হবে। মাত্র ১১ মাসেই দেশটিকে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিকভাবে রসাতলে নিয়ে গিয়েছে ইউনূস। মত ওয়াকিবহাল মহলের।
অন্যদিকে বারেবারে শেখ হাসিনা অডিও বার্তা দিচ্ছেন। গোপালগঞ্জের ঘটনার পর সেনাবাহিনীকে ছেড়ে কথা বলেননি হাসিনা। এর পাশাপাশি খবর, আওয়ামী লীগ শুধু সক্রিয় হচ্ছে তাই নয়, সংগঠিত হচ্ছে ভারত থেকে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে ধামাকা দিতে পারে শেখ হাসিনার দল। ফলে অনেকটাই ব্যাকফুটে ইউনূসের সরকার। এখন দেখার, আদতে পরিস্থিতি তিনি সামাল দিতে পারেন, নাকি পরিণতি হয় হাসিনার মত!












Discussion about this post