সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় এবার আন্তর্জাতিক স্তরে ঘোর অপমানিত মহম্মদ ইউনূস। সংখ্যালঘুদের জীবন নিয়ে ছেলেখেলা করছে ইউনূস। বিস্ফোরক ট্রাম্প সরকারের। জানা যাচ্ছে, আমেরিকার আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন বা ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম এর পক্ষ থেকে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। তবে কি এবার বড়সড় কোনও একশন নিতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প?
গত বছরে বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয় বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে চলে যায় বহু মানুষ। পতন ঘটে সরকারের। গঠিত হয় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের। তারপর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটছে। দিন দিন ভয়ানক রূপ ধারণ করে। এদিকে পরিস্থিতি লাগাম টানতে কার্যত ব্যর্থ ইউনূস সরকার। ভারতও বিভিন্ন সময় সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের ঘটনায় গর্জে উঠেছে। কিন্তু লাভের লাভ হয়নি। এবার এই অত্যাচার নিয়ে মার্কিন সংস্থার পক্ষ থেকে গত শনিবার একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার এবং মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে ওই রিপোর্টে গত বছর ৫ থেকে ২০ অগাস্টের মধ্যে ১,৭৬৯ টি সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কথা জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ১,২৩৪ টি। ২০ টি কেস সাম্প্রদায়িক এবং বাকি ১৬১ টি ভুয়ো। ইউনাইটেড স্টেটস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ব্লাসফেমি ধারা জারি রয়েছে। অর্থাৎ ধর্মীয়ভাবে আঘাত হানলে ফৌজদারি মামলা হিসেবে গণ্য হবে। এই সংস্থা ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশে আনতে চাপে পড়ে গিয়েছে ইউনূস প্রশাসন।
এমনিতেই একাধিক সমস্যা নিয়ে জর্জরিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তার মধ্যে দিকে দিকে বিক্ষোভ, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। এমনকি ছোট ছোট আন্দোলনও সংগঠিত হচ্ছে। এই ঘটনাগুলো চাপে পড়েই আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচনে দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে ইউনুস সরকারের পক্ষ থেকে। তার মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে চাপ আসতেই আরও চাপে পড়ে গিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস। মনে করা হয়েছিল করিডোর এবং বন্দর ইসুতে ট্রাম প্রশাসন বা আমেরিকা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের দিকে। যা নিয়ে বাংলাদেশের উপদেষ্টারাও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা জানান দিচ্ছিল। কিন্তু এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই তাদের মোহ ভঙ্গ হল, সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post