চরম বিপাকে বাংলাদেশ। প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় কুয়ালামপুর বিমানবন্দর থেকে দলে দলে বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-১ ও ২ থেকে মালয়েশিয়ান বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি বাংলাদেশিদের প্রবেশ করতে দেয়নি বলে জানা যাচ্ছে। এখনও পর্যন্ত ২০০-র বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে কুয়ালামপুর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেই সূত্রের খবর। কেন এত কড়াকড়ি করছে ইসলাম প্রধান দেশটি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মালয়েশিয়ায় জঙ্গিবাদ প্রচার ও অর্থায়নের অভিযোগে গত মাসে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল মালয়েশিয়ার পুলিশ। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ফেরত পাঠানো হলেও বাকিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর থেকেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি কড়াকড়ি শুরু করেছে। মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি বারনামার জানিয়েছে, ২৫ জুলাই মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮০ বাংলাদেশিসহ ৯৯ বিদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। পর পর এই অভিযানে আরও বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানায় মালয়েশিয়ার বার্তা সংস্থা। আরও জানা যাচ্ছে, মালয়েশিয়ার কুয়ালামপুরের জালান মসজিদ ইন্ডিয়া এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশি-সহ ১৭১ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, আটক হওয়া ব্যাক্তিদের অনেকের কাছেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, যথেষ্ট তহবিল বা বিদেশি মুদ্রা ছিল না। কেউ কেউ হোটেল বুকিং দেখাতে পারেননি। আবার অনেকের ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল অস্পষ্ট, যা অভিবাসন আইন অনুযায়ী প্রবেশের অনুপযুক্ত হিসেবে গণ্য হয়।
এমনিতেই ভারত বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে। একমাত্র জরুরি মেডিকেল ভিসা ও পড়ুয়াদের ভিসা ছাড় দিচ্ছে নয়া দিল্লি। ফলে বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলিতে যেতে সমস্যা হচ্ছে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ড হয়ে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এবার সেই দেশগুলিও বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠাতে শুরু করল। ফলে শিঁড়ে সংক্রান্তি দেখা দিচ্ছে বাংলাদেশিদের জন্য। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বাগোক্তির সুরেই জানান, আমাদের ঘর গোছাতে হবে।
অন্যদিকে গণঅভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর পর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে। তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আমরা বরাবরই ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করি। তবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে। তাঁর মুখে আম কূটনীতির কথাও শোনা যায়।
বাংলাদেশের যে উপদেষ্টারা প্রথম থেকেই ভারত বিরোধী মন্তব্য করছিলেন, তাঁরা এই মুহূর্তে ভারত সম্পর্কে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। এমনকি পুশ ব্যাক ইস্যুতেও বাংলাদেশের তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করছেন না। কূটনৈতিক মহলের মতে, বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানতে পেড়েছে ভারত বড় কোনও পদক্ষেপ নিতে চলেছে। আবার আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ক্রমাগত চাপ আসছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের ইউনূস সরকার বুঝতে পেরেছে এই মুহূর্তে ভারত ছাড়া গতি নেই তাঁদের সামনে। তাই এখন ভারতের জন্য মিস্টি মিস্টি বুলি বের হচ্ছে উপদেষ্টাদের মুখ থেকে।












Discussion about this post