ফের একজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল বিএসএফ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নাকি প্রতিবেশী দেশের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছিলেন। তার ফোন বাজেয়াপ্ত করে জানা যায়,তিনি ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাতে বসবাস করতেন। এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। তবে এরা সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখেন না। রেডিও হ্যাম সাউন্ড রেকর্ডার কে কাজে লাগিয়ে তারা যোগাযোগ রাখে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এই তালিকায় বাংলাদেশীদের নাম উঠে আসে। তাদের বিরুদ্ধেও বিএসএফ একশন নিচ্ছে।
এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উঠে আসে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এবং বসিরহাটে বসে রেডিও টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে কেউ বা কারা এদেশের খবর অন্য দেশে পাচার করছে। জানা গিয়েছে, এখানে মোবাইলের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না সে সমস্ত জায়গাতেই এর রেডিও টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ খুব সহজে এটাকে চিহ্নিত করা যায় না। এই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সাংকেতিক কিছু আলাপ আলোচনা শোনা গিয়েছিল ঠিক দু মাস আগে। সেখানে দেখা গিয়েছিল, বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে ক্রমাগত ভারতের হ্যাম রেডিও পরিকাঠামোয় কেউ বা কারা যোগাযোগ করছে। এই বিষয়টি নিয়ে যখন পুরো তদন্ত করা হয়, তখন রেডিও চালক অম্বরিশ চালক বিশ্বাস এই পুরো বিষয়টি অনুধাবন করার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেছিলেন, তিনি রাতে রেডিও বন্ধ রাখেন না। আওয়াজটি কমিয়ে রাখেন। একদিন রাতে ঘুম উঠে দেখেন, রেডিও থেকে কথোপকথনের আওয়াজ আসছে। মনে করেছিলেন, রেডিও থেকে কোনও বার্তা আসার চেষ্টা চলছে। সঙ্গে সঙ্গে আওয়াজটা তিনি বাড়িয়ে দেন। অর্থাৎ রেডিও টেকনোলজিকে কাজে লাগিয়ে ক্রমাগত বাংলাদেশের কোনও গোয়েন্দা মারফত এই সমস্ত কথাবার্তা চলছে।
বিশেষজ্ঞরা একটি নির্ণায়ক এন্টেনা ব্যবহার করেন। যাতে সেটা বুঝতে সুবিধা হয়। তারপর বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বোঝা যায় এই সমস্ত কথোপকথন গুলি হচ্ছে বনগাঁ এবং বসিরহাটের মতো এলাকায়। বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা আলোচনা করছে। এবং কেউ যাতে তাদের ভাষা বুঝতে না পারে তাই সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। আর সেরকমই একটি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল বিএসএফ। অর্থাৎ এটা বিএসএফের একটা বড় সাফল্য।
সীমান্তবর্তী এলাকায় বহু ব্যক্তির এমন সন্দেহজনক কাজ করলেই তাদের তদন্তের মধ্যে আনা হচ্ছে এবং অসংগতি পেলেই তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। নিঃসন্দেহে বিএসএফের এটা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এখন দেখার, আরো এই বিষয়ে কোনও তথ্য উঠে আসে কিনা। কারণ এটি জাতীয় সুরক্ষার বিষয়।












Discussion about this post