ঘোষিত হল বহু প্রতীক্ষিত জুলাই ঘোষণাপত্র। কিন্তু এতে কার কি লাভ হল? কোন দলের কি লাভ হল? আদতে সাধারণ মানুষ কি লাভবান হলেন? অনেকে বলছেন, এদিন প্রমাণিত হল, মহম্মদ ইউনূস গনতন্ত্র মানেন না। অন্যদিকে বিএনপির সহ রাজনৈতিক দল করেছে গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়েছে সেটাও প্রমাণিত। কারণ এই জুলাই ঘোষণাপত্রের খসটা দেওয়া হয়েছিল তিনটি রাজনীতির দলের কাছে। একটি বিএনপি অন্যটির জামাইতি ইসলামি এবং এনসিপি কে। সেই কারণেই অনেকগুলি রাজনৈতিক দল এই চোরাই ঘোষণা পত্র অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে মনে করা হয়েছিল, এই অনুষ্ঠানে লক্ষ লক্ষ মানুষে ভরে যাবে। কিন্তু কত মানুষ হয়েছে সেটা দেখেছে গোটা বাংলাদেশবাসী। এদিকে ৩০ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগার যে ট্রেন ভাড়া করা হল, সেটা পুরোটাই বৃথা হল। বলছে ওয়াকিবহাল মহল। আসলে পুরো জুলাই ঘোষণাপত্র বাংলাদেশবাসীর জন্য নিয়ে এসেছে অশ্বডিম্ব। বলছে সেদেশেরই মানুষ।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে একটি ট্রেন ভাড়া করা হয়েছিল, যার আসন সংখ্যা ছিল ৬৭৬। কিন্তু সেই ট্রেন ঢাকা এসেছে ১৭ জন যাত্রী নিয়ে। তবে ঘোষণাপত্রে কি কি উল্লেখ করা হয়েছে? এটা নিয়েই চলছে চর্চা। জানা যাচ্ছে, এই ঘোষণা পত্রে শুধু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, তাদের জমানার নিন্দে। প্রশ্ন উঠছে এখানেই, সেটা তো বর্তমান দলের উপদেষ্টা থেকে ছাত্র নেতারা এই ১১ মাসের প্রত্যেকটি বক্তব্য তে করে আসছেন। তাহলে আলাদা করে এর জন্য ঘোষণাপত্র কেন?
যেহেতু, আশির দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছর ছাত্র-জনতার অবিরাম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় এবং ১৯৯১ সালে পুনরায় সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়; এবং
যেহেতু, দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সরকার পরিবর্তনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় ১/১১-এর ষড়যন্ত্রমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার একচ্ছত্র ক্ষমতা, আধিপত্য ও ফ্যাসিবাদের পথ সুগম করা হয়।
এমন নানা কথা উল্লেখ করা হয় শেখ হাসিনার আমলে। এদিকে জিয়াউর রহমানের শাসন আমলের কথা উল্লেখ করা হল না। এমনকি এদিন দেখা গেল, রাজনৈতিক দলগুলি বিভিন্ন সময় সরকারের সমালোচনা করলেও, এদিন মঞ্চে সেটা দেখে বোঝার উপায় নেই। এদিকে বিএনপির বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকলেও, কিছু বিষয়ে তারা প্রশংসা যোগ্য বলে উল্লেখ করছেন অনেকে। কারণ রাষ্ট্রপতির অপসারণের কথা অনেকবার উঠলেও দেখা গিয়েছে, তারা সেটা ঠেকিয়েছে। এমনকি ৩১ শে ডিসেম্বর জুলাই ঘোষণা পত্র প্রকাশ করতে চাইলেও বিএনপি’র জন্য সেটা প্রকাশ করা যায়নি। এমনকি ওই ঘোষণা পত্রে বিপ্লব বা দ্বিতীয় স্বাধীনতা এমন নানা বিষয়গুলো উল্লেখ করতে চেয়েছিল ছাত্রনেতারা। কিন্তু বিএনপি সেটা না চাওয়াতে এগুলি উল্লেখ হয়নি। এখানেই বিএনপির কিছুটা সার্থকতা বলে অনেকে উল্লেখ করছেন।












Discussion about this post