৫ই অগাষ্ট বাংলাদেশে বহু প্রতীক্ষিত জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষণা করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। উপস্থিত হয়েছিলেন ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে সরকারের উপদেষ্টামন্ডলী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এছাড়াও উপস্থিত হয়েছিলেন দেশের সাধারণ জনতা। যদিও আশানুরূপ ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। তবে সবথেকে বেশি বিতর্ক ছড়িয়েছে বেশ কিছু ছাত্রনেতা এবং উপদেষ্টারা কেন ওই জুলাই ঘোষণাপত্র অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না? জানা যাচ্ছে, সেদিন তারা গোপন কক্সবাজার উড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গোপনে পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী, তাসনিম জারা ও খালেদ সাইফুল্লাহ। তারা ৫ ই খুব তড়িঘড়ি করে একটি বিমানে কক্সবাজার পৌঁছে ছিলেন। মনে করা হচ্ছে, এই বৈঠক পূর্ব নির্ধারিত ছিল না। তবে কি নতুন কোনও ষড়যন্ত্র? এই প্রশ্নটাই উঠছে।
এই পিটার হাস হলেন ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সেই জুলাই মাসেই বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে ওঠে হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে।
কিছুদিন আগেই বর্তমান সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন ১/১১ এর পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সরকার এবং গণঅভ্যুত্থানের সমস্ত নেতাদের নিরাপত্তা দিচ্ছেন্জ সেখানে এমন মন্তব্য কেন? এমনকি কিছুদিন আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল ইসলাম মন্তব্য করলেন,আগামী ৫-৬ দিন ক্রুশিয়াল ডে। হঠাৎ তার এই মন্তব্য কেন ছিল?
অন্যদিকে এই পিটার হাস, ২০২৪ সালের আগে নির্বাচনের জন্য যে তৎপরতা, তিনি নির্বাচনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেন। তিনি বিরোধী দল গুলির কাছে ভগবান হয়ে উঠেছিলেন। এখন সেই ব্যক্তির সঙ্গেই কেন হঠাৎ বৈঠক এনসিপির? এই প্রশ্নটাই উঠছে।
জানা গিয়েছে, ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির আগে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারেন প্রধান উপদেষ্টা। এমনটাই সূত্র মারফত খবর। সেই নির্বাচন ঠেকানোর জন্যই নাকি পিটার হাসের দ্বারস্থ হয়েছেন এনসিপি নেতারা। তবে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল, গণঅভ্যুত্থানের পিছনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে এখনো গ্রহণযোগ্যতা, সেটাও প্রমাণিত। তারা জানেন, এখন নির্বাচন হলে তারা একটি আসনও জিততে পারবেন না। তাই কেন কেন প্রকারণে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠকানোর জন্যই এই বৈঠক করতে গিয়েছিলেন বলে খবর উঠে আসছে। তবে তারা কেউই এটা স্বীকার করেননি। এখন দেখার, শেষমেষ কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post