এক বছর হয়ে গিয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। সেই বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের সমারোহে উদযাপন হয়েছে। যা ঘিরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম নানা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আসলে কোন দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ? এটাই এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন। এমনকি এই গুঞ্জন দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তবে কি ইউনূসের বিদায় ঘন্টা বেজে গেল?
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ নৈরাজ্যের দিকে এগোচ্ছে কিনা, তাই নিয়েই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আমেরিকান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিল। আটলান্টিক কাউন্সিলের সাউথ এশিয়া সেন্টারের একজন অনাবাসী সিনিয়র ফেলো হলেন ড.আলী রিয়াজ। যিনি বাংলাদেশের সংস্কার কমিশনের প্রধান। এবং জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান। ড. আলি রিয়াজ কিছুদিন আগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিলেন। যে প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল হাসিনা ইজ আউট, ইউনূস ইজ ইন। এবার ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিপ্লবের বর্ষপূর্তিতে বাংলাদেশের নাগরিকরা এটাকে পকেটমার হিসাবে দেখছেন। এমনকি উল্লেখ করা হয়, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে। এমনকি রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ডামাডোলের পরিস্থিতি। এমনকি দেশটিকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়,
৫ আগস্ট, ২০২৪-এ হাসিনার পতনের পরের সপ্তাহগুলিতে সতর্কীকরণের লক্ষণগুলি আরও বেশি করে দেখা যায়। ধর্মীয় চরমপন্থীরা দেশজুড়ে ভাস্কর্য এবং শিল্পকর্ম ভেঙে ফেলে। এর পরপরই, আল-কায়েদার সরকারি মিডিয়া শাখা আস-সাহাব বারো পৃষ্ঠার একটি বার্তা প্রকাশ করে, যেখানে এই ঘটনাকে মুসলমানদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করা হয়, ভাস্কর্য ধ্বংসের প্রশংসা করা হয় এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলে ইসলামের বিজয়ের আশার আলো হিসেবে চিত্রিত করা হয়।
এরপর মার্চ মাসে, ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষিত হিযবুত তাহরীর ঢাকার রাস্তায় খিলাফতের জন্য মার্চ নিয়ে মিছিল করে, অগ্রিম প্রচারণার মাধ্যমে এবং অর্থবহ সরকারি হস্তক্ষেপ ছাড়াই। এই সন্ত্রাসীদের কারচুপি বিচ্ছিন্নভাবে ঘটেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিল আল-কায়েদা-অনুমোদিত আনসার আল-ইসলামের শীর্ষ নেতা জসিম উদ্দিন রাহমানির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা। শীর্ষ জঙ্গি সহ পনের হাজারেরও বেশি বন্দী দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়েছে। সারা দেশে সমন্বিতভাবে কারাগার ভাঙার ঘটনায়, ৯৮ জন দোষী সাব্যস্ত ইসলামী সন্ত্রাসী কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে। আজ, রাস্তায় জিহাদি পতাকা উড়ছে, কর্তৃপক্ষ অন্যদিকে তাকিয়ে আছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বস্ত করেছেন যে বাংলাদেশে উগ্রবাদ পুনরুত্থিত হবে না, যদিও প্রমাণগুলি অন্যথায় ইঙ্গিত দেয়। তার প্রশাসন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে না।এটি সন্ত্রাসীদের একটি কোণার অফিস দিচ্ছে যেখানে তারা একটি দৃশ্য দেখতে পাবে। জুলাই মাসে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এই বিদ্রোহের বেশিরভাগ শক্তি নারীদের সামনের সারিতে ছিল, তবুও এই মৌলবাদী নবজাগরণে, তারাই প্রথম হতাহত। এমনকি বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ার পর থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছেন। বাংলাদেশের ক্ষমতা নতুন সরকার হাতে নেওয়ার পর থেকে এখনো পর্যন্ত 189 টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি সরকার যখন ডেভিল হান্ট অপারেশন চালু করে, তখন কুড়ি হাজার এরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তারা প্রায় প্রত্যেকেই আওয়ামীলীগ সমর্থক। এমনকি পরিসংখ্যান তুলে ধরে উল্লেখ করা হয়েছে, শুধুমাত্র মে মাসে সংখ্যাটা পৌঁছয় ৪৮ হাজার ৪০০ তে। বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড।
এখানে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনার জমানাকে ফ্যাসিবাদ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই সরকার সেই একই কাজ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। শুধু তাই নয়, একাধিক অভিযোগ জমা করার পরও তার লাগাম টানার চেষ্টা করেনি মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শেখ হাসিনার আমলে যে বিষয়গুলি আয়ত্তের মধ্যে ছিল এবং বাংলাদেশের সরকার লাগাম টেনে এনেছে, সেগুলি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জমানাতে বেড়ে উঠেছে। বেড়ে উঠেছে সন্ত্রাস গোষ্ঠীগুলি এবং পাশাপাশি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী এবং পুঁজিবাদের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এমনকি শনিবার রাজধানীর ইমানুয়েল কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় পার্টির দশমএ জাতীয় সম্মেলনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। অন্তবর্তী সরকারের আমলে অপমানিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
অর্থাৎ ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা সমর্থন করেছিল এই সরকারকে, তারাই এখন সরকারের কার্যকলাপ দেখে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এবং এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি পরতে পরতে তুলে ধরছি তারা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় দিয়ে থাকলেও আদেও সেই ডেডলাইন মেনে নির্বাচন হয় কিনা, সেটাই দেখার।












Discussion about this post