ব্রিটেনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার পদক্ষেপ করছে মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে। শেখ হাসিনার দল অর্থাৎ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু সেটি মানবাধিকার লঙ্ঘন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্যদের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আবেদন করেছেন স্টিভেন পাওলস কেসি এবং অ্যালেক্স টিনসলি। স্টিভেন পাওলস কেসি একজন আন্তর্জাতিক অপরাধ বা অমানবধিকার বিষয়ে খ্যাতি সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব।
জানা যাচ্ছে, স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং অন্যান্য দূতদের কাছে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কাছে আওয়ামী লীগের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য সকল নির্বাচনে দলকে সম্পূর্ণরূপে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন এই ধরনের আন্তর্জাতিক সংস্থা এমন অভিযোগ করে, তবে তাদের কাছে যথেষ্ট পরিমাণে তথ্য এবং প্রমাণ রয়েছে। জানা যাচ্ছে তাদের এই আবেদনটি নিজেদের ওয়েবসাইটেই তারা আপলোড করেছে। মহম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের ক্ষমতা হাতে নিয়েছেন ৮ই অগাষ্ট। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছেন। তিনি ক্ষমতা হাতে নেবার পর আওয়ামীলীগ সমর্থক এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত ও সংখ্যালঘুদের উপর ব্যাপক অত্যাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি তাদের কোনরকম শাস্তি দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব এড়িয়ে গিয়েছেন। মহম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের যে কথা বলেছেন, সেই প্রতিশ্রুতি আদেও পূরণ করেন কিনা, সেটাই দেখার।
অর্থাৎ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, যে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির কাছে যে মুলো ঝুলিয়ে রেখেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সেটাই বলার চেষ্টা করছে ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার।
ইতিমধ্যে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে শেখ হাসিনার দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের সকল কর্মকাণ্ডের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা কিভাবে মানবাধিকার লংঘন করে এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত করে সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর জন্য অনুরোধ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, ৫ আগস্ট স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের দলের উপর চলমান দমন-পীড়নের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে আরও ১,৫৯৩ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে বলে বলা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রশ্ন একটাই, এতকিছুর পরও কি শেখ হাসিনার দলকে ফের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে? নাকি এগুলি অভিযোগই থেকে যাবে? এমন নানা প্রশ্ন উঠে আসছে।












Discussion about this post