চরমে উঠেছে ভুরাজনৈতিক অস্থিরতা। যার শুরু হয়েছিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দিয়ে। সেই যুদ্ধ তো থামেই নি। উল্টে দিন দিন পরিস্থিতির অবনতি শুরু হয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে যত কিছু বলেছিলেন, ক্ষমতায় আসার পর সবই পাগলের প্রলাপে পরিনত হয়েছে। একদিকে চলছে দেশে দেশে সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি,আর একদিকে ট্রাম্পের টেরিফ যু্দ্ধ, অস্থিরতা বাড়িয়েছে আমেরিকার ভিতরে এবং বাইরে, আমেরিকার বিভিন্ন বিচার বিভাগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে আইনি মামলা। আর এই সব ব্যাপারগুলি থেতে নিজেকে মুক্ত রাখতে পারেনি ভারত। ফলে হাসিনার বিষয়ে সুনিদৃষ্ট কোন পদক্ষেপ নিতে পারে নি ভারত। প্রথম দিকে ভারত নিরপেক্ষ থাকলেও, ট্রাম্পের জেদাজেদাতি ভারতকে সরাসরি রাশিয়ার পক্ষ নিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় ট্রাম্প বাংলাদেশ নিয়ে কি ভারছেন তার অপেক্ষা না করে ভারতকেও ভারতের মত করে ভাবতে হচ্ছে।
একদিকে যখন বাংলাদেশে মোটমুটি একটা নির্বাচনের সময় ঠিক করা হয়ে গেছে, তখনও আওয়ামীলীগ এবং হাসিনা কি করবে তা নিশ্চিত নয়। এই অবস্থায় ভারতের এনএসএ অজিত ডোভাল রাশিয়ায় আছেন এবং তিনি রাশিয়া থেকেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ফোনে কথা বলিয়ে দেন। এবং জানা যাচ্ছে পুতিনের সঙ্গে হাসিনার প্রায় সতেরো মিনিটের মত কথা হয়েছে। সেখানে যেমন ব্যক্তিগত আলাপচারিতা ছিল,অর্থাৎ উভয়ে উভয়ের ব্যক্তিগত এবং শারিরীক খোঁজ খবর নিয়েছেন, ঠিক তেমন রাজনৈতিক আলাপচারিতাও ছিল। পুতিন হাসিনাকে আস্বস্ত করেছেন যে তিনি নিজে নাকি বাংলাদেশে আসবেন হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসার পর। এবং হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় সফরে তিনি রাশিয়া যাওয়ার আমন্ত্রন জানাবেন। এখানে বলে রাখা ভালো যে ভারত এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতিতে মিল থাকলেও তার পুরোপুরি উল্টো পথে চীন এবং আমেরিকা। চিন আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির মুল বিষয় হল আগ্রাসন। যে কারনে আমেরিকা হয়তো হাসিনাকে আর চাইবে না। কারণ হাসিনা বলেই দিয়েছেন যে তিনি নিজের দেশের একইঞ্চি জমি কাউকে দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চান না। (বাইট-হাসিনা 00-37 থেকে 01-36) ফলে আমেরিকা চাইবে হাসিনার পরিবর্তে অন্য কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসুক।
কিন্তু চীনও যদি চায় হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকুক সেক্ষেত্রে আমেরিকার হস্তক্ষেপ খুব একটা কাজে আসবে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী চিনে যাচ্ছেন, সেখানে তিনি যদি হাসিনা এবং শি জিংপিংএর মধ্যো কোন মধ্যস্থতা বা কোন মিটিং এর ব্যবস্থা করতে পারেন সেক্ষেত্রে ভারত চীন এবং রাশিয়া মিলে যদি হাসিনাকে আবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পদ ফিরেয়ে দেয় তাহলে অন্য কোন দেশ তার বিরোধীতায় এগিয়ে আসবে না। এই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েই আপাতত ভারত গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। অনেকটা পাহাড়ী পথে সাবধানে চলার মত করে। এখন দেখা যাক যে রাশিয়ার পর চিন থেকে কি বার্তা আসে সেই অপেক্ষায় সবাই।












Discussion about this post