হাসিনার পতনের পর কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, তাই নিয়ে চলছিল নানা কাটাছেড়া। কখনও জামাত এগিয়ে তো কখনও বিএনপি,আবার মাঝে মাঝে অনেকে আওয়ামীলীগ ফিরে আসবে এই আশাও করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন চকৎকার ছাড়া যে আওয়ামীলীগ ফিরে আসতে পারবে না তা সবাই বুঝতে পারছেন।অন্যন্য দেশগুলি যাই চেয়ে থাকুক না কেন, বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিড়ানক বা যারা বাংলাদেশ নিয়ে খেলে চলেছে সেই আমেরিকাও সিদ্ধান্ত হীনতায় ভুগছিল যে কাকে তারা ক্ষমতায় দেখতে চাইছে। কিন্তু চীন বার বার বিএনপির সঙ্গে বৈঠক করা এবং বিএনপিরও চীনের প্রতি আলাদা করে আগ্রহ প্রকাশ করার ফলে আমেরিকা আর দেরী না করে ঠিক করে ফেলে যে তারাও বিএনপিকে আগামী দিনে বাংলাদেশের ক্ষমতায় দেখতে চায়। তা ছাড়া ভারতের সঙ্গে টেরিফ নিয়ে সমস্যা থাকলেও বঙ্গোপসাগরীয় এলাকায় ভারতই যে তাদের একমাত্র ভরসাস্থল তাও বুঝে আমেরিকা। বিএনপির নেতাদের বারবার চীনে যাওয়া ফলে ভারতও আমেরিকাকে এই বার্তা পৌঁছে দেয় যে বিএনপিকে এখনই কনফিডেন্সে না নিলে বিএনপি চিনের করায়াত্ত হয়ে যাবে। তাই ভারতের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে, বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসে আমেরিকার ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে একান্ত বৈঠক করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।
কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে, লন্ডনের এক নির্দিষ্ট স্থানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আয়োজিত হয় বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে এ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দলের চেয়ারপারসনের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।
একইসঙ্গে বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক। সূত্রমতে, বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও তার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
বিশেষভাবে, বিএনপি যদি আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়, তবে তারা কেমন সরকার গঠন করবে এবং কোন কাঠামোর মধ্যে দেশ পরিচালনা করবে — এসব বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বেশী ছিল বলে জানা গেছে।
হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ বেড়েছে বিএনপি এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ নানা শক্তিধর রাষ্ট্র এখন বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন চায়। এই প্রেক্ষাপটেই বৈঠকে নির্বাচন ও সরকার গঠনে বিএনপির রূপরেখা আলোচিত হয়েছে।
এই আলোচনার প্রেক্ষিতে হুমায়ুন কবীর আরও জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফিরতে পারেন।
তার মতে,এ বছরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান। নভেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগেই তিনি বাংলাদেশে ফিরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে তাহলে প্রধান বিরোধী দল কে হবে। জামাতের সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকলেও, আগামী দিনে এনসিপি কোন পথে হাঁটে তার উপর অনেকটাই নির্ভর করছে জামাতের ভবিষ্যত। আবার পিটার হাস কি কোনভাবে চেষ্টা করছে যে এনসিপির পরিচিত মুখগুলিকে সেফ এক্সিট বা বিএনপির ছাতার তলায় নিয়ে আসতে। যাতে তাদের আন্দোলোনের পুরস্কার তারা পান। কিন্তু জামাতই তো ছিল আন্দোলোনের মূল কারিগর, তাহলে জামাতকে কেন পছন্দ নয় আমেরিকার। আসলে জামাতকে শুধু উগ্র ধর্মবাদের প্রতিক হিসাবেই নয়,অন্য একটি কারণও আছে। জামাত মহিলাদের কোন ভাবেই প্রাধান্য দেয় না। তারা কোন নির্বাচনেই মহিলা প্রার্থী দিতে নারাজ। ফলে জামাতের মধ্যে এই উদারতার অভাবও তাদেরকে আমেরিকার অপছন্দের তালিকা ভুক্ত করেছে। তাই আমেরিকা বাংলাদেশের আগামী দিনের ক্ষমতা দখলকারী হিসাবে বিএনপিকে এক রমক মনোনয়ন দিয়ে ফেলেছে।












Discussion about this post