আমি তো ফিরতেই চাই, কিন্তু তোমাদের থেকে সিগন্যাল আসছে না। এমনটাই জানালেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানা যায়, তিনি স্নেহধন্য এক কর্মীর সঙ্গে কথোপকথনে এমনই মন্তব্য করেন। তার নাম জানা যায় আওয়ামী লীগ নেতা তানভীর।
মূলত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, যেভাবে বিবিসি এবং আলজাজিরা একের পর এক প্রতিবেদন পেশ করছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে, তাতে হাসিনা জানিয়েছেন, এদের দিয়ে যা খুশি করানো হচ্ছে। এমনকি এই সংবাদমাধ্যম গুলি অন্তর তদন্ত ছাড়াই একের পর এক প্রতিবেদন পেশ করছে তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শেখ হাসিনা কাদের থেকে সিগন্যাল পাওয়ার কথা জানিয়েছেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিনি বলেছেন ভারত সরকারের উদ্দেশ্যে।। তবে কেন কোনো সংকেত দেওয়া হচ্ছে না ভারত সরকারের পক্ষ থেকে? সেটার বিষয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উপমহাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির আমল পরিবর্তন। যেটা অন্যতম কারণ। তবে ঠিক কি বলেছেন শেখ হাসিনা শুনুন তার স্নেহধন্য আওয়ামী লীগ নেতার মুখ থেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেভাবে ভারতের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে এবং আমেরিকা যেভাবে জঙ্গি দমনের পরিবর্তে পাকিস্তানকে জঙ্গিবাদের লাইসেন্স দিয়ে দিয়েছেন, তাতে অনেকটাই ভারতকে মেপে পা ফেলতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে। এছাড়াও বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান শেখ হাসিনার পক্ষে ছিলেন বলেই মনে করা হয়েছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোটাই উল্টো। গোপালগঞ্জের ঘটনার পর সেনাপ্রধান যে খানিকটা ইউনুসপন্থী সেটা স্পষ্ট হয়েছে।
তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এটাই, যে কতদিন ভারতের আশ্রয় থাকবেন শেখ হাসিনা? এখন আন্তর্জাতিক স্তরে একটি ঠান্ডা লড়াই চলছে। এদিকে রাশিয়া এবং অন্যদিকে আমেরিকা। এদিকে চিন তো রয়েছেই। তবে আমেরিকার দাদাগিরি মানবে না, চীন। তাই ভারতকে সঙ্গে নিয়েই কোনো পরিকল্পনা করতে পারে সি জিং পিনের দেশ। বলছেন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকার শক্তিশালী রাষ্ট্র। তাই তাকে পরাস্ত করতে যৌথ রণনীতি প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে কি এগিয়েছে ভারত? জানা যাচ্ছে, সাত বছর পর চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি একটি বৈঠকে যোগ দেবেন বলে খবর। একদিকে যখন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে তখন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর, অনেকটাই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের। জানা যাচ্ছে অজিত দোভাল ইতিমধ্যেই রাশিয়া সফরে গিয়েছেন। তিনি পুতিনের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবং সেই কারণেই ভারতের উপর অতিরিক্ত কর চাপিয়েছে। সেই জায়গা থেকে এই বৈঠকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত ওয়াকিবল মহলের।
তবে এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে চূড়ান্ত কিছু হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিস্থিতির সাই দিলে সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মহম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে। যেভাবে আমেরিকার নজর পড়েছে বাংলাদেশের সেন্ট মার্টিন দ্বীপ থেকে শুরু করে বন্দর, করিডোর। সেক্ষেত্রে চুপ করে বসে থাকবে না শেখ হাসিনা নিজে। এমনকি বলা হচ্ছে, সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে রাশিয়া এবং ভারত থেকে সবুজ সংকেতের আশায় রয়েছেন শেখ হাসিনা। অর্থাৎ মুহাম্মদ ইউনূসের দিন যে ঘুনি আসছে সেটার বলার অপেক্ষায় রাখে না। এই সম্ভাবনার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহল।












Discussion about this post