ভারত রাশিয়া এবং চীনের কাছে এটা পরিস্কার হয়ে গেছে যে বাংলাদেশে আওয়ামীলীগের সরকার ছাড়া আর যে কোন সরকারই আসুক না কেন, তারা আমেরিকাকে বাংলাদেশে অনাআসে উপনিবেশ গড়ার সুযোগ করে দেবে। তাই ভারতের মধ্যস্থতায় রাশিয়া এবং চীনকে নিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে যে বাংলাদেশে যেন নির্বাচিত সরকার হিসাবে আওয়ামীলীগের সরকারই থাকে। রাশিয়া বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাই পুতিন হাসিনার সঙ্গে ফোনে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।এবং কিভাবে তারা বাংলাদেশের দখলদার সরকারকে হঠিয়ে কিভাবে আবার তাকেই পুনরায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসাতে পারে, সেই বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে চলেছে। অন্য দিকে সামনেই চিনে এসসিও সম্মেলন, যেখান প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদিকে বিশেষ ভাবে স্বাগত জানাতে আগ্রহী শি জিংপিং। মনে করা হচ্ছে সেখানেই বাংলাদেশ নিয়ে মোদিজির সঙ্গে শি জিংপিং এবং পুতিনের সাথে বিশেষ আলোচনাটি সেরে ফেলা হবে, তার পর তিনটি গুরুত্বপূ্র্ণ দেশ মিলে হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসিয়ে দেওয়া হবে। এবং ভবিষ্যতে যাতে আমেরিকা আবার তার উপনিবেশ গড়ার লক্ষ্যে যেন ৫ই আগস্টের মত ঘটনা ঘটাতে না পারে, তার জন্য ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল বাংলাদেশকে এসসিও এবং ব্রিকসের মধ্যে অন্তভূক্তি করা। আর একবার এই কাজটি করা গেলে আমেরিকা বাংলাদেশে তার উপনিবেশ গড়ার যে পরিকল্পনা তা কোনদিনই বাস্তবায়িত করতে পারবে না। কারণ বঙ্গ বন্ধুর মত হাসিনাও বলে রেখেছে যে আওয়ামীলীগ কোনদিনই দেশের এক ইঞ্চিও অন্য দেশের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষমতা ভোগ করতে চায় না। (
অর্থাৎ আওয়ামীলীগ সরকারে থাকলে এশিয়াতে আমেরিকার কোন উপনিবেশ গড়ে উঠবে না।
অন্যদিকে আসন্ন সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও সম্মেলন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে স্বাগত জানাল চিন। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যধিক শুল্ক চাপানো নিয়ে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজুবত করতে চাইছে বেজিং, এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের। আগামী ৩১ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর চিনের তিয়ানজিন শহরে বসতে চলেছে এসসিও-র আসর।
প্রধানমন্ত্রী মোদির চিন সফরকে স্বাগত জানিয়ে, চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেছেন, এসসিও গঠনের পর সবথেকে বড় আকারের সম্মেলন হতে চলেছে তিয়ানজিন সম্মেলন। তাঁর কথায়, “আমরা বিশ্বাস করি যে সকল পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, তিয়ানজিন শীর্ষ সম্মেলন হবে সংহতি, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ ফলাফলের সমাবেশ, এবং এসসিও উচ্চমানের উন্নতির একটি নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে যার মধ্যে বৃহত্তর সংহতি, সমন্বয়, গতিশীলতা এবং উৎপাদনশীলতা থাকবে।” আর ভারতের লক্ষ্য থাকবে যে কোন ভাবে বাংলাদেশকে এসসিও-র মধ্যে অন্তভূক্তি করা।
বর্তমানে এই ব্লকে এই মুহূর্তে ১০টি সদস্যভুক্ত দেশ রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- বেলারুশ, চিন, ভারত, ইরান, কাজাখাস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তান। তিয়ানজিনের এই মিটিংয়ে যোগ দেবেন ১০টি সদস্য দেশের রাষ্ট্র-প্রধানরা।
২০১৯ সালে শেষবার চিন সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর ২০২০ সালে গালওয়ান সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উত্তেজনার সেই আবহ আপাতত কমলেও, দুই দেশের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নতি হয়নি। এরকম একটা পরিস্থিতিতে মোদি চিন সফরে যাচ্ছেন। আগামী ৩১ অগাস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চিনের তিয়ানজিন শহরে বসতে চলেছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলন। সেখানে এসসিও-র সদস্যভুক্ত দেশগুলি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাস এবং বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলি আলোচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও চিনের সম্পর্কে স্থিতিশীলতা আনার জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। আর এই আলোচনাতেই ভারত রাশিয়া এবং চীন যাতে বাংলাদেশকে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তা নিশ্চিত করতে চাইবে ভারত।












Discussion about this post