গত বছর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। ৫ই অগাষ্ট সরকারের পতন ঘটতেই দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এমনকি আওয়ামী লীগের বহু নেতা, কর্মী পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গাতে অবস্থান নেন বলে খবর। এমনকি এর মধ্যে রয়েছে শীর্ষ নেতা, মন্ত্রীরা। জানা গিয়েছে, তাদের মধ্যে কোনও যোগাযোগ ছিল না। কিন্তু এখন সেই যোগাযোগ স্থাপন হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে এই বছর ৫ই অগাষ্ট হাসিনা সরকারের পতনের বর্ষপূর্তিতে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেন প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ঠিক তখনই খবর আসে, কলকাতায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় খোলা হয়েছে। তবে প্রবাসী সরকার গঠন করে দেশ চালাতে চাইছেন শেখ হাসিনা?
সূত্র বলছে, যেখান থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আওয়ামী লীগের কোন ব্যানার ও বঙ্গবন্ধুর ছবি বা শেখ হাসিনার ছবি কোন কিছুই নেই বলে জানা যাচ্ছে । তারা নাকি কাউকে বুঝতেই দিতে চান না, যে এটা আওয়ামী লীগের অফিস। অর্থাৎ তারা গোপনে কাজ করতে চাইছে। তবে গোপন থাকলো না। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে তা উঠে এসেছে। জানা যাচ্ছে, কলকাতা লগোয়া উপনগরীতে শয়ে শয়ে কমপ্লেক্স রয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক একটি ভবনে আওয়ামী লীগ অফিস তৈরি করে দল পরিচালনা করছে। কারণ সেখানে বেশ কিছু জনকে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে। যাদেরকে আগে দেখা যেত না সেখানে। এই নবাগতদের অনেকেই চেনেন না। তবে তারা এক বছর আগেও বাংলাদেশের ক্ষমতাশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। তারা আওয়ামীলীগ এবং সহযোগী সংগঠনগুলির শীর্ষস্তরের নেতা। তারা যে বাণিজ্যিক ভবনটিতে যাতায়াত করছেন বেশ কয়েকদিন ধরে সেখানে দলীয় দফতর খুলেছে আওয়ামী লীগ। এই দলীয় অফিসটি নতুন। এর আগে ২০২৪ সালে ৫ ই আগস্ট সরকার পতনের পর তারা চলে আসেন। বড় বৈঠক বাইরে করলেও ছোট বৈঠকগুলি এই ভবনটিতে করছেন। তবে অবনতিতে এখনো পর্যন্ত কোন ছবি ব্যানার ব্যবহার করা হয়নি। কারণ তারা সেটা নাকি গোপন রাখতে চায়। গত বছর যে সমস্ত নেতারা পালিয়ে গিয়েছিলেন, তারাই সেখানে যাতায়াত করছেন। শুধু তাই নয়, পুলিস কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্তারাও যাতায়াত করছেন। এমনকি এই দলীয় অফিসটি মাত্র পাঁচ ছয় মাস আগেই নেওয়া হয়েছে বলে খবর।
উল্লেখ্য, ৭১ এর সময় ভারতে থেকে প্রবাসী সরকার গঠন করে, স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল আওয়ামী লীগ। সেটা না করলে আজকের বাংলাদেশ থাকতো না। দেশ থেকে পরিচালনা করতে গেলে নেতাদের জীবন সংকটে পরে যাবে। তবে ৭১ এর সঙ্গে ২০২৪ এর তুলনা চলে না। তবে বাস্তবতা এটাই।
এর আগেও শোনা গিয়েছিল, শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এমনকি বেশকিছু নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে করেছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের যায় কার্যক্রম হচ্ছে, সবটাই নেত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশে। তবে প্রশ্ন উঠেই যায়, ভারতে বসে আদৌ কি কোনও সুবিধা করতে পারবে আওয়ামীলীগ? তবে কি নিষিদ্ধ দলগুলিকে একজোট করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য কোনও পরিকল্পনা করছেন শেখ হাসিনা? কারণ আওয়ামী লীগও নিষিদ্ধ বাংলাদেশে। তারা ভালো করেই জানে, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ফলে আওয়ামীলীগ নেত্রী খেলা কোন দিকে ঘোরাচ্ছেন, সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।।












Discussion about this post