প্রধান উপদেষ্টা ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রোজার আগে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছিলেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে তাঁর দপ্তর থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার জাতীয় যুব শক্তি আয়োজিত ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫’-এ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের তীব্র বিরোধিতা করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘সংস্কার ও নতুন সংবিধান ছাড়া এ নির্বাচন হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের মায়েদের বুকে তাঁদের সন্তানদের ফেরত দিতে হবে।’
সংস্কার ও বিচারকাজ শেষ করেই নির্বাচন হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির এই নেতা। অবশ্য তাঁর এ বক্তব্য ব্যক্তিগত না দলীয় পরিষ্কার নয়। জামায়াতের মতো এনসিপিও আনুপাতিক ভোটের কথা বললেও সারা দেশে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির সময় নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিছুটা বেকায়দায় থাকা এনসিপির নেতা–কর্মীদের মনোভাব চাঙা করতে কিংবা অন্যান্য দলের সঙ্গে দর–কষাকষি বাড়াতেও তারা এ কৌশল নিতে পারে।যদিও আমরা বহু আগের থেকেই বলে আসছি যে ফেব্রুয়ারীতে ভোট হবে না সেটি প্রধান উপদেষ্টা শুধু জানেনই না, তিনিও এটাই চান। অনেকে বলবেন তাহলে তিনি যে ভোটের ঘোষনা দিলেন, তার কি হবে। আসলে এই মহুর্তে দেশ অরাজক অবস্থার মধ্যে থাকলেও ভোট না হওয়ার মত অবস্থা তৈরী হয়নি। তাই মানুষের মনে ভোট ভোট ভাবনাটি ঢুকিয়ে দিয়ে তিনি ভালো মানুষ সাজতে চাইছেন। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরী করা হবে যে যখন তিনি দেশের মানুষকে বলতে পারবেন যে, দেশের যা পরিস্থিতি তাতে এখন ভোট করানো সম্ভব নয়। ফলে জামাত এনসিপি যেমন ক্ষমতা ভোগ করছে তেমনই তারা ক্ষমতা ভোগ করবে। কিন্তু বিএনপি কি ছেড়ে দেবে। তারাই তো এখন ক্ষমতার আসল দাবীদার, কারণ তাদের কাছেই জনসমর্থন বেশী আছে বলে তারা মনে করেন। ফলে প্রশ্ন ভোটের মাঠে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবে? ধারণা করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের যেহেতু কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই তারা মাঠে না থাকায় নির্বাচনে জামায়াতই হবে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে এই দুই দলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। জামায়াত ইতিমধ্যে ৩০০ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে ও প্রচারও চালাচ্ছে। অন্যান্য ইসলামি দলের সঙ্গে জামায়াত নির্বাচনী সমঝোতা বা আসন ভাগাভাগি করতে পারে। এনসিপি সে সমঝোতায় নিজেকে যুক্ত করবে, না এককভাবে ভোট করবে, তা পরিষ্কার নয়।
অতি আত্মবিশ্বাসী এনসিপির নেতারা কিছুদিন আগেও বলতেন, আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে তাঁরা সরকার গঠন করবেন অথবা প্রধান বিরোধী দল হবেন। এক নেতা তো ভবিষ্যৎবানীই করে ফেলেছিলেন, বিএনপি ৯০ থেকে ১০০ আসনের বেশি পাবে না। কিন্তু তারা এখন যখন বুঝতে পারছে রাজনীতির ময়দানে নামলে তারা শুধু গোল খাবে, তখন তারা ভোটের বিরোধীতা করতে শুরু করল। ফলে
বিপ্লবী ছাত্রদের সঙ্গে ইউনুসের সংঘাত চরমে। ২০২৪-এর জুলাইতে গণ অভ্যুত্থানের পর আগস্ট মাসে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসে। যার মুখ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব পান মহম্মদ ইউনুস। চাপের মুখে সম্প্রতি তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে হতে চলেছে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন। যদিও সেই দাবি মানতে নারাজ এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি। তিনি বলেছেন, ‘ঘোষণা করছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। কারণ, নতুন সংস্কার বা নতুন সংবিধান, কোনও কিছুই আমরা পাইনি। যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয় তাহলে আমার যে ভাইয়েরা শহিদ হয়েছিল সংস্কারের জন্য, নতুন সংবিধানের জন্য, সেই মরদেহ সরকারকে ফেরত দিতে হবে।যদিও আগামী বছরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে চলেছে, ফের তা জানিয়ে দিলেন মহম্মদ ইউনুস। আগামী নির্বাচনে ব্যান করা হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর রাজনৈতিক দল আওয়ামি লিগকে। ওপার বাংলার আমজনতার একাংশ বলছেন, দেশে একনায়ক শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন এই অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য উপদেষ্টা। তিনি জানিয়েছেন, সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে—যাতে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়। ইউনুস আরও জানিয়েছেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষমতার প্রকৃত মালিক—জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বুধবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করে বক্তব্য রাখার সময় এমনটাই জানান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ইউনুস। যদিও ইউনুস ও তার সরকারের বিরুদ্ধে এককাট্টা বিপ্লবী ছাত্ররা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকার খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ মিলনায়তনে এনসিপির যুব সংগঠন যুবশক্তির কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই)এর সংস্কার দাবি করে বলেন, ‘ডিজিএফআই যদি রাখতেই হয় তাহলে সংস্কার করে রাখতে হবে। আয়নাঘর ভেঙে দিয়েছি, এবার ডিজিএফআইয়ের হেডকোয়ার্টারও ভেঙে দেব।’ দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘ভবিষ্যতে অনেক সংকট আসন্ন, সবাই সতর্ক থাকুন। জাতীয় পার্টি কাউন্সিল করে পেছনের দরজা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছে। বিদেশি দূতাবাসগুলো উত্তাপ বাড়াচ্ছে। কিছু করলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে যেতে হবে।’ অন্যদিকে বিএনপি বলছে জুলাই আন্দোলোনে যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা হয় বিএনপি অথবা সাধারণ মানুষ, কিন্তু ছাত্রনেতাদের কেউ আহত বা নিহত হয়নি।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post