এনসিপি যে শেষের শুরুর দিকে পৌঁছে গেছে তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টাদের অতিত এবং বর্তমান মিলাতে পারছে না ছাত্র উপদেষ্টাদের সহ যোদ্ধারাই। ফলে তাদের প্রশ্ন বিদ্ধ হতেই হবে। আর যত দিন যাচ্ছে ততই যে তারা লোভ এবং মোহের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে, তা জলের মত পরিস্কার। তবে ।অথবা তারা বুঝে গেছে আওয়ামীলীগকে আটকানো তাদের পক্ষ্যে সম্ভব নয়। আওয়ামীলীগ শুধু একটি দল নয়, আওয়ামীলীগ মানে শুধুমাত্র দেশের ত্রিশ থেকে চল্লিশ পারসেন্ট ভোটার নয়। আওয়ামীলীগ মানেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আওয়ামীলীগ মানেই বাংলাদেশ।তাই বেশ কয়েকদিন হয়ে গেলেও অনেকের কাছে পরিস্কার নয়, ৫ই আগস্টের মত দিনে এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ নেতা কেন কক্সবাজারে গেলেন।প্রথমে ছাত্রনেতারা বলেন তারা সুস্থতার খোঁজে কক্সবাজারে গিয়েছেন।কারণ কক্সবাজারে নাকি প্রচুর পরিমানে বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়া যায়। যা নাকি পৃথিবীর সব থেকে স্বাস্থ্যকর বাতাস।তবুও ৫ই আগস্টের মত দিনে এক সঙ্গে পাঁচ জন কক্সবাজারে গেলে প্রশ্নতো উঠবেই। সবার শরীর তো আর একসঙ্গে খারাপ হতে পারে না। তার উপর আবার সমাজ মাধ্যম এবং গনমাধ্যমে প্রকাশ পায় যে কক্সবাজারে পিটার হাসের সঙ্গে দেখা করতেই পাঁচ নেতা তড়িঘড়ি কক্সবাজারে গিয়েছেন। যদিও তার সঠিক কোন প্রমান মেলেনি। কিন্তু একটা প্রশ্ন তো থেকেই যাচ্ছে, তারা হোটেল বদল করলেন কেন, আর কাদেরকে হোটেলের পিছন দিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পিটার হাস না থাকলেও বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিরা যে ছিলেন, তার প্রমান হল হোটেল বদল। হতে পারে যে হোটেলে তারা প্রথমে উঠেছিল, সেই হোটেলে পিটার হাস বা এই ধরণের ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। আর তার সঙ্গে কাজ মিটে যেতেই হোটেল বদল করা হয়েছে। সাধারণ জনগনও এই নিয়ে বিশেষ আলোচনার মধ্যে ছিলেন,কারণ পিটার হাস বর্তমানে কোন দায়িত্বে না থাকলেও, জুলাই আন্দোলোনের সময় তিনি যে বিশেষ ভুমিকা পালন করেছিলেন তা কম বেশী সবার জানা। শোনা যায় তাদের গতিবিধি নজর দারির জন্য গোয়েন্দা বিভাগকেও নাকি কাজে লাগানো হয়।কিন্তু এই কাজ কে করল এবং কেন করল তা আজও স্পষ্ট নয়। তবে কি এসব লোক ভুলানো ইউনূসের ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের অঙ্গ।এখানেই শেষ নয়, প্রশ্নের মুখে পড়ে এনসিপি দলটিও। কারণ যাদের আকাঙ্খা ছিল জুলাই ঘোষনা, যাদের লড়াই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সংস্কার এবং জুলাই সনদ তারা কি করে সেই বিশেষ দিনে অনুষ্ঠানের বাইরে থাকেন, অসুস্থতার অজুহাতে কেন ঐ বিশেষ দিনটেতেই নিজেদের অনুষ্ঠানের বাইরে রাখলেন ঐ গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ নেতা।আর তাদের না থাকাটি নাকি দলও আগের থেকে জানত না। তাই দল থেকে তাদের শোকজের নোটিশ দেওয়া হয়, দলের কার্যকরী নেত্রী সামান্তা বলেন কেউ দলের উদ্ধে নয়। দলের নিয়ম শৃঙ্খলা সবাইকেই মেনে চলতে হবে। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায় ঐ নেতাদের। তারা বলেন যে মিটিং মিছিলেই যে সব সময় সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয় তা নয়। অনেক সময় নির্জনে সমুদ্র সৈকতে বসেও ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া যায়।আর এখানেই অনেকে মনে করছেন, তাহলে এনসিপিতে কি তারা তাদের নিজেদের ভবিষ্যত ভালো দেখছেন না।তারা কি নতুন দল গঠনের ভাবনা করছেন।যদিও কোনটি ঠিক বা দল এর পর কি ব্যবস্থা নেয় তা তো ভবিষ্যতে বোঝা যাবে বা জানা যাবে। কিন্তু অনেকে মনে করছেন জুলায়ের ঘোষনা পত্রটি এই ছাত্রনেতাদের পছন্দ হয়নি। এবং এর দায় ভার থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতেই এই অনুষ্ঠানে জেনে বুঝে অনুপস্থিত থেকেছেন তারা।জুলাই ঘোষনা পত্র যে তাদের পছন্দ হয়নি, তা মোটামুটি ছাত্ররা বুঝিয়েই দিয়েছেন। আবার কারো মতে ঐ দিনে পিটার হাসের সঙ্গে কোন বৈঠক না হলেও তুরস্কের গোয়েন্দা বিভাগ এবং আইএসআই এর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে ছাত্রনেতাদের, আর যে কারণে এক হোটেল থেকে আর এক হোটেলে ছুটাছুটি করেছেন তারা।আবার অনেকের মতে তাদের বয়স কম, তাই এটি তাদের একটি ছোট ভুল। কিন্তু এই অযাচিত ভুল অথবা জেনেবুঝে ভুল, তার মাসুল কি দিতে হয় তা সময়ই বলবে। তবে এনসিপি যে শেষের শুরুর দিকে পৌঁছে গেছে তা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্র উপদেষ্টাদের অতিত এবং বর্তমান মিলাতে পারছে না ছাত্রউপদেষ্টাদের সহ যোদ্ধারাই। ফলে তাদের প্রশ্ন বিদ্ধ হতেই হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post