২০২৫ সালের ১৫ই অগাষ্টকে কিভাবে মূল্যায়ন করবে বাংলাদেশের মানুষ? কেউ কেউ বলছেন, শোকের দিনটি প্রতিবাদী দিন হিসাবে উদযাপিত হয়েছে। কেন বলছি? তার কারণ, সরকারের তরফে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে যে বা যারা শ্রদ্ধা জানাতে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু তারপরও মুজিবপ্রেমীরা সেখানে হাজির হয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা জানাতে। মহম্মদ ইউনূসের শাসানিকে উপেক্ষা করে বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন। উল্টে মানুষের এত ঢিলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই বুঝি আওয়ামী লীগ ফিরে এল। বলছে ওয়াকিবহাল মহল।
১৪ অগাস্ট থেকেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে দেখা গিয়েছে, জলকামান, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। সাঁজোয়া যান পর্যন্ত রাখা হয়েছে।এমনকি ১৫ ই আগস্ট সকাল থেকে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে উচ্চস্বরে গান বাজানো হল। এমনকি সেখানেই মধ্যরাত থেকে বিএনপি নেতা কর্মীরা অবস্থান নিয়েছিলেন বলে খবর। তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও বহু মানুষকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাদের মধ্যে একজন রিক্সা চালকও ছিলেন। যিনি একটি ফুলের তোড়া নিয়ে আসেন। সেটার উপর লেখা ছিল, জাতীয় শোক দিবস, ১৫ই অগাষ্ট। এমনকি ওই রিকশাচালক জানিয়েছেন, তিনি খুব কষ্টের দিন গুজরান করেন। তারপরও বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে ৪০০ টাকা দিয়ে সেই ফুলের তোরা তিনি কিনেছেন। কিন্তু তারপরও তার থেকে ফুলে তোরা কেড়ে নিয়ে পা দিয়ে পিষে দেওয়া হয়েছে। তাকে ব্যাপকভাবে মারধর করা হয়েছে। এমনকি বহু মানুষের ওপরই মব করা হয়েছে। যারা কেউই আওয়ামী লীগ সমর্থক নন। তারা মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান জানান এবং বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই চিত্র আগামী বাংলাদেশের জন্য খুব একটা মঙ্গলজনক নয়। এমনকি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, বিএনপি কি নিশ্চিত? যেকোনও বাধা ছাড়াই আগামী নির্বাচন সম্পন্ন হবে? পরিসংখ্যান বলছে, এখনো পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে যায় না, বা ভোট দিতে চায় না। এই সংখ্যাটার মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগ এবং দেশের সচেতন নাগরিক। এমনকি রাজনৈতিক ওয়াকিবহুল মহল বলছে, বাকি ৩৫ শতাংশের মধ্যে দেশের এতগুলো রাজনৈতিক দলগুলির ভোট ভাগাভাগি হয়ে যায়। তার মধ্যে ৫ থেকে ৭ শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোট রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে বাংলাদেশের যা পরিস্থিতি, তাতে কোনও রাজনৈতিক দলই সুবিধার মধ্যে নেই। ফলে কেন সরকার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি আওয়ামী লীগকে কুলশিত করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং দেশের রাজনৈতিক দলগুলি দেখছে।
এছাড়াও মব চলাকালীন পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। এমনকি ধানমন্ডি থানার ওসি বলে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম নির্দেশ মতো এই কাজ হচ্ছে। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ কি ধরে নেবে, শফিকুল আলমের কথাতে দেশ চলছে?
তবে সরকারের এত জোকরাঙানি এবং প্রশাসনের এত জোর জুলুমের বড় দমে যায়নি বাংলাদেশের মানুষ। বঙ্গবন্ধু প্রেমি যাচ্ছি কি কি উপস্থিত হয়েছিলেন সেদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে। শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন শেখ মুজিবুর রহমানকে। কিন্তু সেটা রক্ত দিয়ে। পার্থক্য এটাই। তবে দেশের মানুষ সব হিসাব রাখছে। সময় এলে সুদে আসলে ফেরত দেবে জনগণ। বলছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post