সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ভারত বিরোধীতা করাই যায় কিন্তু দেশ এবং সরকার চালাতে গেলে ভারতের সমর্থন যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ইউনূস সরকার। তাই শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই বৈঠক বা আলোচনা করেই থেমে থাকেন নি বাংলাদেশের হাইকমিশনার।বর্তমান ভারত সরকারই শুধু যে মূল ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছে না তা বুঝতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাই তারা কেন্দ্রসরকার এবং সেই সঙ্গে আরএসএসের সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু করেছে। এই কারণেই আরএসএস এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রাম মাধবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। তারা বুঝতে পেরেছে যে আরএসএসের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলা মানে কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সেতু গড়ে তুলা। কারণ আরএসএস শুধু বিজেপির সাংগঠনিক শক্তিই নয় তাদের সরাসরি যোগাযোগ প্রধানমন্ত্রীর দফতর পর্যন্ত। বাংলাদেশের হাইকমিশনার শুধু আরএসএস নয়, যোগী আদিত্যনাথের সাথেও বৈঠক করতে চান। কারণ ভারত সরকারের মূল ক্ষমতার উৎস হল উত্তরপ্রদেশও। বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন এবং নেতাদের কে এটা বোঝাতে চাইছেন যে, বাংলাদেশে অবস্থিত হিন্দুদের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে এবং তাদের ন্যায় বিচার দিতে এই সরকার সচেষ্ট। কিন্তু চিন্ময় প্রভু যতদিন না মিথ্যে মামলাগুলি থেকে ছাড়া পাচ্ছেন তাদের পক্ষে এই বিষয়গুলিকে সত্য প্রমান করা খুবই কঠিন হবে। এবং এই বৈঠকের পিছনে অন্য কোন কৌশল আছে বলেই সন্দেহ করা হবে।দিল্লি এসে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ ভারতকে আশ্বস্ত করেছেন যে বাংলাদেশি ভূখণ্ড ভারতবিরোধী কার্যকলাপের ঘাঁটি হিসেবে কাজ করবে না, পাকিস্তানি বা চীনা প্রভাব সম্পর্কে যেকোনো উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ হাইকিমশনার । এক আলাপচারিতায় হামিদুল্লাহ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভাগাভাগি করা অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং গভীর সাংস্কৃতিক সংযোগের উপর প্রতিষ্ঠিত কয়েক দশকের পুরনো সম্পর্ক হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
“বাংলাদেশের মাটি কখনও কেউ ভারতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে না,” বলেও জানান তিনি।বাংলাদেশে ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলির বৃদ্ধির খবর এবং চীন ও পাকিস্তানের সাথে ঢাকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগের মধ্যে এই মন্তব্য করা হল।
বাংলাদেশের ইসলামপন্থী নেতারা বারবার হাসিনার সঙ্গে ভারতের যে চুক্তিগুলি আছে সেগুলিকে মানুষের কাছে এমন ভাবে তুলে ধরে যেন, বাংলাদেশ ভারতের গোলাম হয়েই আছে। কিন্তু সেদেশের সাংবাদিকদের অনেকেই বলেছেন যে শেখ হাসিনা যে অসম চুক্তি গুলি করেছিল, সে চুক্তিগুলো এখনও প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তিগুলি প্রকাশ পেলে বলা যেত যে এই এই চুক্তিগুলি অসম।এই চুক্তিগুলি বাতিল করা উচিৎ। কিন্তু চুক্তিগুলি কি আছে, তা এখনও কেউ জানতে পারেনি। হাসিনা সরকার তাদের স্বার্থে চুক্তিগুলি না জানাতে পারে, কিন্তু ইউনূসের সরকার কেন এই চুক্তিগুলিকে সামনে আনছে না।উল্টে ভারত যখনই একটি একটি করে চুক্তি বাতিল করছে তখন দেখা যাচ্ছে ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশের, ভারতের পরিবর্তে চাপে পড়ছে তারা। এখন বাংলাদেশ বুঝতে পারছে ভারতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনা টিকবে না। তাই কেন্দ্র সরকারের পাশাপাশি আরএসএস-এর মত সংগঠনের সাথেও বাংলাদেশ সম্পর্ক তৈরী করতে চাইছে। কারণ জন আন্দোলোনে ভারত বিরোধীতা জনপ্রিয় হলেও রাষ্ট্রনীতিতে ভারত বিরোধীতাকে স্থায়ী করা যাচ্ছে না। এছাড়া স্বচ্ছ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করাতে হলে ভারতের সহযোগীতা এবং সমর্থন খুবই প্রয়োজন। কিন্তু ভারত যদি এটা দেখে যে এই বৈঠক এবং বার্তা শুধু কৌশল নয়, বাংলাদেশ সরকার সত্যিই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইছে, তাহলে এই বৈঠক হতে পারে দু-দেশের নতুন সম্পর্ক তৈরীর সুচনা বিন্দু।












Discussion about this post