মহম্মদ ইউনূস আর মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের কথা শুনতে চাইছেন না। কারণ তিনি যদি তাদের কথা মত ভোটে রাজী হন তাহলে তার আর ক্ষমতায় থাকা হবে না।এছাড়া ইউনূসের নিয়োগকর্তা যারা আছেন সেই ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিকে ভোটের মুখে ঠেলে দিয়ে তাদের জীবন এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করতে চাচ্ছেন না ইউনূস সাহেব। এটি তো মানতেই হবে যে সংবিধান বাতিল হলে প্রেসিডেন্ট চুপ্পুর সামনে যেমন আছে ফাঁসির দড়ি, তেমনি বিএনপির জন্য আছে বাংলাদেশের রাজানীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ভয়।আর কখনও নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিতে না আসতে পারার জোর সম্ভাবনা আছে বিএনপির।আবার অন্যদিকে সংবিধানটি যদি বাতিল না হয় তাহলে এনসিপির ছাত্রনেতাদের জন্য হোক বা জামাত এবং ছাত্রশিবিরের ছাত্রদের জন্যই হোক, নির্বাচন হলে যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে যে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আসতে হবে এবং তাদের জন্যও যে ফাঁসির দড়ি অপেক্ষা করবে তা তারাও ভালো করে জানে,তাই তারা চাইছে জুলাই সনদের মাধ্যমে সংবিধান বাতিল, এবং ভবিষ্যতে যদি কোনদিন ভোট হয়ও তাহলেও এই জুলাই সনদে হাত দেওয়া যাবে না।এবং তাদেরও কোন বিচার যাতে না করা যায়। কারণ তারা জানে যে জুলাই সনদকে যদি আইনি ভিত্তি না দেওয়া যায় তাহলে তাদের অবস্থা খুবই খারাপ হবে।যে কারণে যিনি জুলাই সনদ তৈরী করছেন সেই আলি রিয়াজ আইনি পরামর্শ নিচ্ছেন, যে ঠিক কি করলে জুলাই সনদটিকে এমন আইনি ভিত্তি দেওয়া যায় যে আগামীদিনে নতুন কোন সরকার এসেও তার কোন পরিবর্তন করতে পারবে না। আগামী সরকার আসলে কি হবে, আদৌও আসবে কিনা বিএনপির সে চিন্তা হল পরের চিন্তা। বিএনপির প্রধান চিন্তা হচ্ছে একবার সংবিধান বাতিল হয়ে গেলে আদৌ নির্বাচন হবে কিনা। এই অবস্থায় বিএনপি এবং রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর অবস্থা এমন যে এই বুঝি তাদের প্রাণ যায় আবার এই বুঝি তারা কিছু দিনের জন্য রেহাই পেয়ে গেলেন। কেন বিএনপি এবং রাষ্ট্রপতির একই দশা হল, সেটি জানা দরকার। সেই আগস্ট থেকেই শোনা যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট চুপ্পুকে সরে যেতে হবে, কারণ সংবিধান বাতিল হলে রাষ্ট্রপতি পদটিও বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতির ভাগ্য এবং বিএনপির ভাগ্য কেন এক সরলরেখায় দাঁড়িয়ে সেটির মূল কারণ অনেক গভীরে।রাষ্ট্রপতির পদ বাতিল হলে রাষ্ট্রপতির বিচার আদালতে হবে না রাজপথে সেটি যেমন একটি প্রশ্ন, তেমন সেই সঙ্গে অন্যান্য সাংবিধানিক পদগুলি যেমন তিন বাহিনীর প্রধানদের কি হবে, তাদেরও বিচার কি ক্যান্টনমেন্টে হবে নাকি ক্যান্টনমেন্টের বাইরে রক্তায় অবস্থায় হবে, সেটি যেমন আছে তেমনই বিএনপির কি হবে। কেন রাষ্ট্রপতির ভাগ্যের সঙ্গে তাদের ভাগ্য জড়িয়ে। বিএনপি যখন ভাবছিল ইউনূস ফেব্রুয়ারীতে ভোট ঘোষনা দিয়েছেন অতয়েব তারা হাফ ছেড়ে বেঁচেছন ,যে ভোট হলে তারা ক্ষমতায় আসবেন। কিন্তু হঠাৎ বেঁকে বসেছে জামাত এনসিপি সহ বিভিন্ন দলগুলি, তারা চাইছে এই সংবিধান বাতিল না করে কোন নির্বাচন হবে না। এবং এনসিপি নেতা নাহিদ তো ঘোষনা করেছে যে তারা জুলাই সনদে কোন ছাড়ে দেবে না(বাইট নাহিদ ইসলাম) অবস্থা এমন যে আমেরিকাও পথ খুঁজছে কিভাবে তারা একটা ভোট করিয়ে তাদের পছন্দের সরকার কে ক্ষমতায় বসিয়ে তাদের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি গুলি সম্পন্ন করতে। কারণ অনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে চুক্তি হলে ভবিষ্যতে তাদের তা নিয়ে অন্য রকম ফল ভুগতে হতে পারে।তাই তারা ছাত্রনেতাদের কক্সবাজারে ডেকে নিয়ে গিয়ে বিএনপিতে যোদ দেওয়া অথবা সেফ এক্সিটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ইউনূস আবার যখন বললেন যে নির্বাচন বৈধ না হলে নির্বাচন করিয়ে লাভ কি।তখন আমেরিকার কপালে যেমন চিন্তুর ভাঁজ পড়েছে তেমন বিএনপি রাষ্ট্রপতি এবং সেনাবাহীনি সবার কপালেই চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট।












Discussion about this post