এনসিপির সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। তেমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে কি এনসিপি, ছাত্রনেতাদের প্রয়োজন ফুরিয়েছে মহম্মদ ইউনূসের? এই পরিস্থিতিতে এনসিপি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা সর্ম্পকে বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করেছিল। সেই বিষয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোনও বিবৃতি দেয়নি। এনসিপি নেতাদের বারবার লক্ষ্য করা গিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তারা কথা বলছে। এরপরও নিশ্চুপ সেনাবাহিনী। এদিকে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এদিকে এই সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে তাদের সাহায্য করেছে। কিন্তু তারপরও তারা কথা বলছে তাদের বিপক্ষে। তবে অন্য কোনও চাল দিয়ে চাইছে এই নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর মত নেতারা? চরম বিপাকে সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান।
সম্প্রতি এনসিপি নেতা নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীর মন্তব্য প্রবল সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সেনাবাহিনীর মাথায় নাকি ঘিলু নেই। তাই ঘিলু বিহীন বাহিনী বলেছেন তিনি। তিনি জানান, দেশের আর্মি ভাইরা, হাতে প্রচুর অস্ত্র থাকলে হয় না। মাথাতে ঘিলু থাকতে হয়। এরা না বোঝে সংবিধান, না বোঝে স্টেট। এরা বিভিন্ন দেশের অস্ত্র প্রদর্শনী থেকে অস্ত্র নিয়ে আসে। মাথায় ঘিলু না থাকার কারণে অস্ত্র চালাতে পারে না। এমনই মন্তব্য করেছে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী। অনেকে বলছেন, অবিলম্বে এই নেতাকে গ্রেফতার করে শিক্ষা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দেশের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এমন ওধ্যত্যপূর্ণ কথা বলার পরও, তারা বহাল তবিয়াতে রয়েছে।
সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা তৈরি হতেই পারে। কিন্তু তাই বলে একটি দেশের কোটা সেনাবাহিনীকে প্রকাশ্য খোলা মঞ্চে এমন মন্তব্য করবেন? কেন সেনাবাহিনী এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না? এমন চুপ রয়েছে সরকারও। সরকারের কোনও উপদেষ্টা এই নিয়ে মন্তব্য করেননি।
একটি দেশের রাজনৈতিক দলের নেতাদের এমন ভাষা হলে, দেশের সরকার এবং বাহিনীকে তোয়াক্কা না করলে, তারা কিভাবে দেশের হয়ে কাজ করবে? সাধারণ জনগণই বা কিভাবে এদের ভরসা করবে? সব থেকে বড় বিষয় হলো, সেই সরকার এবং সেনাবাহিনী যদি নিশ্চুপ থাকে। তাহলে এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা আরও নিজেদের উদ্বত্যের দিকে নিয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিংস পার্টি নামে পরিচিত এই জাতীয় নাগরিক পার্টি, আসলে সুযোগ নিচ্ছে। যে ছাত্র নেতারা অনুরোধ জানিয়ে মহম্মদ ইউনূসকে সিংহাসনে বসিয়েছিল, সেই ইউনূস তাদের অত্যন্ত স্নেহ করত। কিন্তু হঠাৎই নির্বাচন বিষয়ে দুই পক্ষের মতবিরোধ লক্ষ্য করা যায়। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেন ইউনূস। এদিকে নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে না বলে জানায় নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। অর্থাৎ ছাত্র নেতারা। ফলে অনেকে বলছে এই থেকে সংঘাত তৈরি হয়েছে দুপক্ষের। তবে এখন দেখার, আদৌ কোনও বিবৃতি সে কিনা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে!












Discussion about this post