যাদের ইঙ্গিত ছাড়া যমুনার কোন দফতরে গাছের একটি পাতাও নড়ে না, সেনাপ্রধানের কাছে তারা শিশু। যাদের কথায় সরকারের উপদেষ্টারা উঠে আর বসে, সেনাপ্রধানের কথায় তারা নাকি নাবালক। তবে কি সেনাপ্রধান এটা বোঝাতে চাইলেন এই সরকার নাবালক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। কারণ বর্তমান সরকারে সেই শিশুসদস্যদের মধ্যে দু-জন আছেন। যাদের কথায় সরকার চলে তারা কি করে শিশু। প্রথম থেকেই সেনাপ্রধান কে পতিপক্ষ বা এই সরকারে বিরোধী বলে প্রমান করেতে চেয়েছে এই ছাত্রউপদেষ্টারা। তারাই দেশের জনগনকে জানিয়েছে যে সেনাপ্রধান বুকে পাথর চাপা দিয়ে ইউনূস সাহেবকে মেনে নিয়েছেন। সেনাপ্রধান নাকি হাসনাতদের ক্যান্টনমেন্টে ডেকে নতুন আওয়ামীলীগকে মেনে নিতে বলেছেন। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলছে সেনার মাথায় ঘিলু নেই। কখনও হুঙ্কার আসছে ক্যান্টমেন্টের সব ইঁট খুলে নেওয়া হবে।আবার কখনও ডিজিএফআই গুড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার । সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান যাদের শিশু বলে ক্ষমা করে দিতে চাইলেন তারা কি সত্যিই শিশু। তাহলে যে আন্দোলোনের ফলে হাসিনার পতন হয়েছিল, সেই আন্দোলোন শিশুদের আন্দোলোন ছিল। নাকি সরকার পতনে ছাত্রদের ভুমিকার থেকে বেশী দায়িত্ব ছিল সেনা এবং ডিজিএফআই এর। সেনাপ্রধান যাদের শিশু বললেন তারাই দেশের হাজার হাজার পুলিশকে হত্যা করেছে। এগুলিও কি শিশুদের কাজ বলে ক্ষমা করে দেবেন সেনা প্রধন। যে সব পুলিশকর্মীরা মারা গেছেন, নিশ্চয় তাদের সবাই তো অপরাধী ছিলেন না। যারা নিরপারাধ ছিলেন তাদের মৃত্যুর কি কোন বিচার হবে কোনদিন।সেনাপ্রধান শিশু বলে কি নিজের অক্ষমতা ঢাকতে চাইছেন। নাকি কোন ঝামেলা না বাড়িয়ে ভোট করাতে চাইছেন, ভাবছেন বিচার করার সময় তো পরে পাবেন। বাংলাদেশের ঘটনাগুলি, ঘটনাবহুল এবং বহুমুখি হওয়ার ফলে নাজেহাল সবাই। যে সমস্ত ঘটনা গুলি সামনে আসছে তাতে বাংলাদেশ এখন ম্যাৎসনায়ের যুগে পরিনত হয়েছে। এনসিপি জামাত এবং বিএনপিও তাদের ক্ষমতা দেখাচ্ছে।আর মরছে সাধারণ এবং সংখ্যালঘু মানুষেরা। কিন্তু কিছু দিন আগেও যারা সেনাবাহীনির সাঁজোয়া গাড়ীতে ঢুকে প্রাণ হাতে নিয়ে ফিরে এসেছে গোপালগঞ্জ থেকে, তারা সেনাবাহীনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে কিভাবে সেনাবাহীনিকেই আক্রমন করছে। নাকি বিভিন্ন জায়গায় এনসিপির দুর্নীতিগুলি ফাঁস হয়ে যাচ্ছে,আর এনসিপি মনে করছে এগুলি সেনাবাহীনিই করছে। তাই তারা নজির বিহীনভাবে সেনাকে আক্রমন করছে। এর আগেও সেনাবাহীনির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে এনসিপি বা কিংস পার্টি। সেনাপ্রধান তখনও চুপ ছিলেন, আর এবার সেনার মাথায় ঘিলু নেই, ডিজিএফআই কে গুড়িয়ে দেওয়া উচিত বলে আক্রমন করার পরও সেনাপ্রধান তাদের শিশু বলে ছেড়ে দিলেন। এতে কি সেনার কাছে সঠিক বার্তাটি গেল। যারা প্রায় এক বছরের বেশী সময় ধরে পুলিশের কাজ করে চলেছে, তাদের জন্য এই ধরণের মন্তব্য কিসের ইঙ্গিত। সেনা সদস্যদের মধ্যে অনেকের মনে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা বুঝতে পেরে তিনি সেনা সদস্যদের উদ্দেশ করে বলেন, দেশের মানুষ এখন সেনা সদস্যদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। পাশাপাশি বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
সেনাবাহিনী নিয়ে নানা ধরনের কটূক্তির বিষয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, এসব মন্তব্যে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এসব করছে, তাদের বয়স কম। তারা আমাদের সন্তানের বয়সি। তারা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে। তখন নিজেরাই লজ্জিত হবে।
সেনাপ্রধান আরও বলেন, সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারি দেখাতে হবে। প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়ানো যাবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post