বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নতুন করে দেশ রক্ষায় বা রাজনৈতিক কোনও ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে কিনা, সেই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তার কারণ সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের কর্মকাণ্ড নানা প্রশ্নের উত্থাপন করছে। যেখানে দেশের মধ্যে সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত হচ্ছেন, সেই সময় জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। এর পাশাপাশি যখন তার বিরুদ্ধে কটুক্তি করা হচ্ছে, তখন তিনি সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে কটূক্তিকারীদের শিশু বলে পাত্তা দিলেন না। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, বড় কোনও সমীকরণের দিকে এগোচ্ছে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। খাদের কিনারায় দাড়িয়ে মহম্মদ ইউনূস।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে জন্মাষ্টমীর উৎসব ও মিছিলে ‘সম্মানিত অতিথি’ ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। উপস্থিত হয়েছিলেন, নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান। এই অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছেন, এই দেশ সবার, এখানে ধর্ম, জাতি, বর্ণ ও গোত্রের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। এই দেশের ওপর সব নাগরিকের অধিকার আছে উল্লেখ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমী উৎসবে তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চিন্তে এ দেশে বসবাস করবেন। আমরা সব সময় আপনাদের পাশে থাকব।
কিছুদিন আগেই রংপুরে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। ঘর বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এমনকি বেশ কিছু জনকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তখন সেনাপ্রধান তেমন কোনও বক্তব্য রাখেননি। তবে এখন স্পষ্ট হল, তিনি সবটাই নজর রেখেছেন। আর তাই জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বার্তা দিলেন সেনাপ্রধান। তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি মানুষের পাশে রয়েছেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে নানা সময় কটুক্তি করা হয়েছে। কখনও করেছেন ছাত্রনেতারা, আবার কখনও করেছেন সরকারে থাকা উপদেষ্টারা। নিশানায় সেনাবাহিনী থাকলেও, একাধিক মন্তব্য করা হয়েছে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে সেভাবে কখনও কোনও উত্তর দেননি সেনাপ্রধান। কিন্তু এবার দিলেন। বড় ঘোষণা জেনারেল ওয়াকারের। তিনি বললেন, যারা আমাদের কটুক্তি করছেন, তাদের কথা শুনি অখুশি হওয়ার কিছু নেই। তারা আমাদের সন্তানদের বয়সী। ওরা বড় হলে ওদের ভুল বুঝতে পারবে। তখন ওরা লজ্জিত হবে। মঙ্গলবার ঢাকা ক্যাক্টনমেন্টে অফিসার্স অ্যাড্রেস অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন। এছাড়াও প্রত্যেকে তারা নির্বাচনের জন্য যে প্রস্তুত সেটি তুলে ধরেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের ঘোষণা মত যে নির্বাচন হতে চলেছে সেটা স্পষ্ট। অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিককালে সেনাপ্রধানের নানা কর্মকাণ্ড প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল। তবে এখনো বিশ্বাস অটুট থাকলো তার এমন মন্তব্যে। আর মহম্মদ ইউনূস যে বিপদে পড়লেন সেটা বলাই বাহুল্য।












Discussion about this post