অনেকে আগেই বলেছিলেন, যে কোনও মুহূর্তে দেশে ফিরতে পারেন শেখ হাসিনা। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাহলে তিনি ফিরবেন কি করে? ফিরলে তো হাসিনা গ্রেফতার হবেন। অনেকে বলছেন, একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে বাংলাদেশে। আর সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ছমাসের মধ্যে নির্বাচন হবে। এবং এর মধ্যে দিয়ে শেখ হাসিনা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ফের ক্ষমতা হাতে নেবেন বলে জানা যাচ্ছে। এই এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আওয়ামী লীগ সরকারি সংবিধান থেকে মুছে ফেলেছিল। তখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি চাইতো সেই সরকারের আওতায় নির্বাচন করাতে। এখন শেখ হাসিনা চাইছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এনে নির্বাচন করাতে। কারণ এখন হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছে।
অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের বিদায় ঘন্টা বেজে গিয়েছে বলে মত ওয়াকিবহল মহলের। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে আমেরিকা ইউনূসকে চাইছেন না। শেখ হাসিনাই এখন ট্রাম্প কার্ড।
মূলত যে কোনও দেশে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচন পরিচালনার জন্যই নিয়ে আসা হয়। এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে বিএনপি চাইছে নির্বাচন হোক। তারা এখন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছে না। এদিকে বঙ্গবন্ধুর হত্যা দিবসের দিন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। ভাষণের শেষ লগ্নে এসে তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকার দরকার। যে সরকারের ধারণা নিজেই একদিন মুছে ফেলেছিলেন বাংলাদেশের আইন থেকে।
এদিকে জানা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কিছু লোকজন বাংলাদেশের হাইকোর্টে মামলা করেন। এবং তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনার দাবি জানায়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর পক্ষে হাইকোর্টের রায় দিয়ে দিয়েছে।
তবে হঠাৎ শেখ হাসিনা কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইলেন? এমনকি শেখ হাসিনার আমলে যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইতো সেই বিএনপি এখন কেন চাইছে না সরকার? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাইছেন তার পিছনে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। প্রথমত বিএনপিকে চাপে ফেলা। অর্থাৎ যারা শেখ হাসিনার আমলে একই বিষয়ে সুর চরাতো, আজ সেই অস্ত্র দিয়েই বাজিমাত করতে চাইছে আওয়ামীলীগনেত্রী।












Discussion about this post