অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে বিদায় নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। তারপরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদায় নেবে। অনেকে বলছেন, সরকার বুঝে গিয়েছে, নিজে থেকে সরে না গেলে বাংলাদেশের জনগণ বিদায়ের ঘণ্টা বাজিয়ে দেবে। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস জানিয়েছিলেন, আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন হবে। আসিফ নজরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন হবে। পিছিয়ে আসার কোনও উপায় নেই বলে জানান তিনি। আর এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, রাজনৈতিক দলগুলো যে যে দাবি জানিয়েছে, সেগুলি কতটুকু বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে? আদৌ কি বাস্তবায়ন করা হবে?
এছাড়াও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সরকারের, কোনও দলের নয়। সরকার এতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস নিজেই বলেছেন। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। সেটা থেকে পিছিয়ে আসা কোনমতেই সম্ভব নয়। নির্বাচনের পর আমরা চলে যাব।
এমনকি সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির ভিন্ন কথা বলে। এটা নতুন কিছু নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এর আগেও ছিল। তবে গুণগত মানের চেয়ে কোন পরিবর্তন হয়নি সেটা স্পষ্ট। এমনটাই উত্তর দেন আসিফ নজরুল।
তাহলে কি ছাত্র নেতাদের সঙ্গে বা ছাত্র উপদেষ্টাদের সঙ্গে সরকারের মতবিরোধ তৈরি হল? কারণ কিছুদিন আগেই নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। এরপরই রাজনৈতিক অঙ্গন অনেক বেশি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জন্ম দেয় নানা আলোচনা এবং সমালোচনার।
প্রতিষ্ঠা নির্বাচনের সময় ঘোষণা করলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলি থেকে আসতে থাকে প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে পি আর পদ্ধতি এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জামাত এবং এনসিপির আসে জোরালো দাবি। তবে এই দুটো রাজনৈতিক দল শুধু সরকারের সঙ্গে নয় বিএনপি’র সঙ্গেও মতানৈক্য দেখা যাচ্ছে। আদৌ কি নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে হবে, নাকি যেমনটা ছাত্র নেতারা চাইছেন ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না, সেটাই হতে চলেছে?
ইতিমধ্যেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এক বছর হয়ে গিয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন না হলে আরও একটি বছর পার করবে এই সরকার। এদিকে দেশের কোনও উন্নতি নেই। ছাত্র নেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে একাধিক কাজ করে চলেছে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি থেকে দুর্নীতির এমন নানা অভিযোগ উঠে আসছে। এদিকে নিশ্চুপ রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তার মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্র নেতাদের সঙ্গে সরকারের বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে কি এই ইসুটিকে কাজে লাগিয়ে জামাত এবং এন সি পি পথে নামবে? যাতে কোনভাবেই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন সম্ভব নয়? তবে তার উত্তর দেবে একমাত্র সময়।












Discussion about this post