আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে এক বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ কেমন রয়েছে? কেমন রয়েছে মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ? বাইরে থেকে সবকিছু ঠিক থাকলেও ভিতরে ভিতরে দেশ পুড়ছে। কখনও সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘর, কখনও জনগণের স্বপ্ন। যে ছাত্ররা একরাশ স্বপ্ন দেখিয়েছিল সাধারণ মানুষকে, তারা এখন দুর্নীতির দায়ে, চাঁদা তোলার লোভে পুড়ছে। যার জন্য সারা বছর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি শুধু শৃঙ্খলার প্রতীক নয় বরং রাজনৈতিক বাস্তবতার অনিবার্য অংশ। এই উপস্থিতির কেন্দ্রে রয়েছেন জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। অনেকে বলে থাকেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জেনারেল ওয়াকারের যে ভূমিকা, সেটা বিরল। বাহিনীর মধ্যে তার নিজের লড়াই চলে।
এক হল, বাংলাদেশের নির্বাচন হলে যাতে সুষ্ঠুভাবে হয় আর একটি হল বাংলাদেশ বাহিনীর মধ্যে নিজেদের পক্ষপাত দুষ্ট থেকে বিরত রাখা। কিন্তু সেটা কি আদেও সম্ভব?
বাংলাদেশের আনাচে কানাচে মোতায়েন রয়েছে হাজার হাজার সৈন্য। কক্সবাজার থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েন রয়েছে সৈন্য। সেনাপ্রধান বলে দিয়েছেন, নির্বাচন নাম এটা পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। এমনকি ভোটের দিন ৮০ হাজার সেনাবাহিনী মাঠে নামবে। অনেকে বলছে এই নিরাপত্তা শুধুমাত্র রাষ্ট্রের জন্য নয়, এটা বোঝানো যে রাষ্ট্র এখন সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। কিন্তু এই সেনাবাহিনীর কি কঠিন ইতিহাস রয়েছে। শেখ হাসিনার আমলের এই সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ভোট হয়েছে বহুবার। কিন্তু ভোট সুষ্ঠুভাবে হয়নি বলে আঙুল তুলেছিল বিরোধীরা। এবার কি ইউনূসের আমলে সেই ভোট অবাধ হবে? কারণ এবার সেনাপ্রধান নিজে বলেছেন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী সব ধরনের সাহায্য করবে সরকারকে।
বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু বাকি শক্তি গুলি? এর কারণ ছাত্রদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং জামাতসহ বেশ কয়েকটি দল সংস্কারের আশায় তারা ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন চায় প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস, সেটা চাইছে না এই দলগুলি। অনেকে বলছেন, যদি এই রাজনৈতিক দল গুলোকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হয়, তবে একপাক্ষিক নির্বাচন হবে। ঠিক যেমনটা এখন অভিযোগ করে থাকেন অনেকে শেখ হাসিনার আমল নিয়ে। তাহলে কোথায় আলাদা এই সরকার?
বাংলাদেশের ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, বিভাজনটাই হলো আসল অস্ত্র। সামরিক শাসন হোক বা গণঅভ্যুত্থান, রাজনৈতিক বিভাজনের জন্যই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। ১৯৭৫ সালে সামরিক পট পরিবর্তন থেকে শুরু করে ৯০ দশকে গণআন্দোলন। এমনকি একবিংশ শতাব্দীর প্রত্যেকটি রাজনৈতিক অচলাবস্থার পেছনেই ছিল বিভাজন এবং দলাদলি। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এক না হতে পারে, তবে সেনা মোতায়ন করেও কোনও লাভ নেই। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
এর পাশাপাশি বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির পিছনে বিদেশী শক্তির ছায়া আছে বলে মত বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। তারা এই বিভাজনকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি তাদের লক্ষ্য হল, নির্বাচন বানচাল করা।
তবে এইসব কাটিয়ে আদৌ কি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান এই অন্ধকারময় বাংলাদেশকে আলো দেখাতে পারবে? এই প্রশ্নটাই উঠছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে।












Discussion about this post