সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকোর্টে ২৫ জন বিচারপতিকে নিয়োগ দিলেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এই ২৫ জনের তালিকায় নাম রয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ছাত্র নেতা সারজিস আলমের শ্বশুর। যা নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে বিতর্ক। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল যদি বিচারপতি পদে উন্নীত হন, তাহলে বিতর্কের অবকাশ থাকা উচিৎ নয়। যেমন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে কর্মরত অ্যাডভোকেট মো. লুৎফর রহমান পেলেন নিয়োগপত্র। তিনিই সারজিস আলমের শ্বশুরমশাই। এই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতেই এনসিপি নেতা সারজিস আলম সাফাই দিয়েছেন। এক লম্বা বয়ানে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর শ্বশুর মো. লুৎফর রহমান কৃতি ছাত্র ছিলেন এবং আইনজীবী হিসেবে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু বিতর্ক থামার লক্ষণ নেই।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয়। তাতে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদ মোতাবেক নিম্নের ১-২৫ ক্রমিকের উল্লিখিত ২৫ জন ব্যক্তিকে শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে অনধিক ২ বছরের জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগদান করেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রজ্ঞাপনের ভাষা সাধারণত এমনই হয়। কিন্তু বিতর্ক থাকে অন্য কোথাও। কারণ, বিগত এক বছরে বেশ কয়েকজন বিচারপতিকে হয় স্বেচ্ছাবসরে বাধ্য করা হয়েছে, না হয় তাঁদের অপসারণ করা হয়েছে। ওই বিচারপতিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা নাকি আওয়ামী লীগের অনুগামী। শুধুমাত্র এই অভিযোগেই ওই বিচারপতিদের অপসারণের দাবিতে হাইকোর্টের সামনে দীর্ঘদিন মব সৃষ্টি করেছিল সারজিস, হাসনাতরা।
ঘটনাচক্রে বর্তমান বাংলাদেশের ছাত্রনেতারা শেখ হাসিনাকে ক্রমাগত ফ্যাসিস্ট এবং তাঁর আওয়ামী লীগ সরকারকে ফ্যাসিবাদী বলে দেগে মাঠ গরম করে চলেছেন। শেখ হাসিনা বিরোধী যে আন্দোলন বাংলাদেশে প্রথম দানা বেঁধেছিল গত বছরের জুন-জুলাই মাসে। সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের কোটা বাতিলের দাবিতেই এই আন্দোলন শুরু করেছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা। পরবর্তীতে তাঁরাই জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠন করে। বাংলাদেশে বৈষম্যহীন এক সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এই সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ বা নাহিদ ইসলামরা। তাঁরাই হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের দাবিতে মব সৃষ্টি করে দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ রেখেছিল আদালত চত্বর। তাঁদেরই চাপের কারণে, বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি অন্তত ১২ জন বিচারপতিকে বাধ্যতামূলক ছুটি বা স্বেচ্ছাবসরে যেতে বাধ্য করেছেন। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা নাকি আওয়ামী লীগের দোসর।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে আইনজীবী লুৎফর রহমান বিচারপতি হিসেবে যে নিয়োগ পেলেন, তিনি কি তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী এই নিয়োগ পেলেন? নাকি কোনও প্রভাবশালী মহল তাঁকে এই পদন্নোতির সুযোগ করে দিল? কেউ কেউ বলছেন, শুধুমাত্র মহা প্রতাপশালী সারজিস আলমের শ্বশুর হিসেবেই তিনি বিচারপতি হলেন। অর্থাৎ জামাই কোটায় তিনি বিচারপতি হলেন।












Discussion about this post