বাংলাদেশের সেনাপ্রধান অনেক দিন অন্তরালে থাকার পর, চিন সফর থেকে ফিরেই বিশেষ তৎপর হয়ে উঠেছেন। কোন সেনাপ্রধান বিদেশ থেকে ফিরলে সেই দেশ থেকে ফিরে গতি প্রকৃতি এবং আলোচনার অগ্রগতি রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টার কাছে বিশ্নেষন করেন, এটি বহু দিনের রীতি। কিন্তু কোন সেনাপ্রধান যখন দেশের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করেন এবং সেটিও দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে, তখন বিষয়টিকি স্বাভাবিক বলা কঠিন।কারণ সেনাপ্রধানকে ব্যারাকে ফিরতে বলছে বাংলাদেশের প্রভাবশালীদের একাংশ। আর বড় ব্যাপার হল যখন বিভিন্ন মিডিয়াতে এই খবর প্রকাশ পাচ্ছে তখন আইন উপদেষ্টা বলছেন তিনি কিছু জানেন না। তিনিও বিভিন্ন মিডিয়াতেই দেখেছেন। এখন প্রশ্ন হল তিনি কি সত্যিই জানেন না, নাকি কিছু লুকাতে চাইছেন।
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।গত রবিবার প্রধান বিচারপতির গুলশানের বাসভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোন বিষয়ে এই আলোচনা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।অন্যদিকে প্রায় একই সময় কয়েক কিলোমিটার দূরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস. এম. কামরুল হাসান।তবে কী কারণে এই সাক্ষাৎ বা বৈঠকে কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।উল্লেখ্য, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। এই বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) তিনটি বাহিনীর কর্মকাণ্ড সমন্বয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন।
এদিকে শুধু প্রধান বিচার পতিই নন, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রথমে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এরপর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।সাক্ষাতের সময় সেনাপ্রধান তার সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। একইসঙ্গে বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচলা হয়েছে।
এর আগে রোববার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাপ্রধান।
এদিকে ২১ আগস্ট সরকারি সফরে চীনে যান সেনাবাহিনী প্রধান। বুধবার রাতে তিনি দেশে ফেরেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সফরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) স্থলবাহিনীর পলিটিক্যাল কমিসার জেনারেল চেন হুইসহ চীনের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়সহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেন।
অন্যদিকে রোববার দেশের প্রধান তিনটি দল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। ওই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন যে আগামী ফেব্রুয়ারীতেই হবে সেই বিষয়ে জোর দিয়ে বলেছেন আইনি উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও। এ ছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আরও ৭টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা।












Discussion about this post