বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূস বলছেন নির্বাচন হবে ফেব্রুয়ারিতে। ভোট অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে তিনি বদ্ধপরিকর। সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বৈঠক করেন ইউনূসের সঙ্গে। বৈঠকে তিনি ইউনূসকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও একটি সূত্র বলছে ইউনূসের অধীনে নির্বাচন চায় না সেনাপ্রধান। এই নিয়ে দুই তরফে পৃথক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস অফিস বলছে, সেনা প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মহম্মদ ইউনূস। চিন সফর পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সেনার ভূমিকার ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানকে অবহিত করেন। সাক্ষাৎকালে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার। প্রশ্ন উঠছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বলতে কী নুরুল হককে বেধরক পেটানোর বিষয়টি ঘুরিয়ে বোঝাতে চেয়েছেন।
সেনা প্রধানের দপ্তর থেকে ওই বৈঠকের নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এছাড়া বাহিনীর উন্নয়ন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দুই তরফে জারি বিবৃতিতে বেশ কিছু ফারাক লক্ষ্য করা গিয়েছে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, সেনা প্রধান ইউনুসকে এই মর্মে বার্তা দিয়েছেন যে রাষ্ট্রপতি যিনিই হোন না কেন, তিনি রাষ্ট্রের প্রধান। সংবিধান অনুসারে, সকলেই তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা তাতে সহমত পোষণ করেন না। আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ক্ষমতা দখলের পর আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে একবারের জন্য দেখা করেননি। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ মনে করে, ইউনূস শুধু হিংসাশ্রয়ী নন, একই সঙ্গে তিনি প্রতিশোধ পরায়ন। শুধুমাত্র ঘৃণার বশবর্তী হয়ে এক বছর ১২ বার বিদেশ সফরে যান। ফিরে এসেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেননি। যদিও দেখা করাটা সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। ইউনূস যে সেই দায়বদ্ধতার ধার ধারেন না, সেটা এই ঘটনা থেকে আরও একবার স্পষ্ট হল।
তবে যে প্রশ্ন নিয়ে বাংলাদেশে সব থেকে বেশি আলোচনা চলছে, তা হল আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ইউনূস জানিয়েছেন, তিনি ভোট করাতে বদ্ধপরিকর। তার জন্য সরকারের তরফ থেকে যা যা করার সেটা তিনি করবেন। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব তৈরি করেছে। সরকার বলছে, একটা স্বার্থাণ্বেষী চক্র কাজ করছে, যারা চায় না বাংলাদেশে ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হোক। তারা চাইছে, যে কোনও উপায়ে ভোট বানচাল করতে। যদিও সেই কুচক্রী কারা, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেনি।
বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে, তাকিয়ে যেমন ভারত, তাকিয়ে আমেরিকা এবং তাদের মিত্র দেশ। ঢাকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আগামীদিনে কোন খাতে বইবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে ভোটের ফলাফলের ওপর। ঢাকার সঙ্গে ইতিমধ্যেই চিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে। ঢাকা সে দেশের হাতে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের দায়িত্ব তুলে দিয়েছে। ঢাকার সঙ্গে বেজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা গভীর হলে যে আমেরিকার পক্ষে অমঙ্গল, সেটা ট্রাম্প সরকার ভালোই বুঝতে পেরেছে। তাই, তারাও চায় সে দেশের শাসনভার এমন একটি রাজনৈতিক দলের হাতে গিয়ে পড়ুক, যারা অবশ্যই মার্কিন স্বার্থ রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে।
এদিকে, ফেরারি আসামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলে তাকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। এমন একটি আইন যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।












Discussion about this post