আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে হটকেক যদি অস্থির বাংলাদেশ হয়ে থাকে, তাহলে দ্বিতীয় হটকেক চিনের সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্ব। মাত্র দুই মাসের মধ্যে দাবার ছক উল্টে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। চিন সফরে পহেলগাঁও হামলা নিয়ে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য পেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার উপস্থিতিতে জম্মু-কাশ্মীরের বৈসরন উপত্যকায় সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের নটি সদস্য রাষ্ট্র। এই বিবৃতিতে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। কয়েকশো মাইল দূরে থাকা আমেরিকার চক্ষু চড়কগাছে ওঠে। আন্তর্জাতিকমহল মনে করছে, নয়া দিল্লির সঙ্গে বেজিংয়ের ঘনিষ্ঠতা ওয়াশিংটন একেবারেই ভালো চোখে দেখছে না। একাংশ মনে করছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির কার্যত ঠাণ্ডা লড়াই শুরু হয়ে গেল। তার জন্য দায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে হিসেব পালটে গিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে?
সূত্রের খবর, ঢাকার সঙ্গে বেজিং সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। সেই সম্পর্কের নিরিখে ঢাকা বেজিংয়ের হাতে তুলে দিয়েছে তিস্তা প্রকল্প, কাজ শুরু হবে আগামী জানুয়ারি থেকে। আর ঠিক তার পরের মাসেই সেখানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। লালমণিরহাট বিমানবন্দরের উন্নয়নের কাজের বরাতও পেয়েছে চিন। মঙ্গলা সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের কাজ দিয়ে দিয়েছে চিনকে। এদিকে, আবার বেজিংয়ের সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। সব মিলিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যে রাশিয়াকে একসময় ভারত দূরে ঠেলে দিয়েছিল, সেই রাশিয়াকে আবার কাছে টানার চেষ্টা করছে দিল্লি। সেই সঙ্গে আমেরিকাকে দিতে চাইছে বার্তা।
অন্যদিকে, কিছু মাস আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের দায়িত্ব ভারতের হাতে তুলে দিয়েছেন। ওদিকে, আসন্ন কোয়াড সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প থাকছেন না বলে আগাম জানিয়ে দিয়েছেন। ভারত-আমেরিকার সম্পর্কে যে ছেদ পড়ল তা বলাই বাহুল্য। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশের মতো একটা দেশের ক্ষেত্রে এর কী প্রভাব পড়বে?
ইউনুস সরকারের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক যে মাখো মাখো তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সে দেশের তাবড় বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এই পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহেই ইউনুস সরকারে বহু নিয়োগ ঘটেছে। যদিও ইউনুস সরকার চিনের সঙ্গে সুবন্দোবস্ত করার পথে হাঁটছেন। তার ইঙ্গিত মিলেছেন লালমণির হাট বিমানবন্দরের উন্নয়নের কাজের বরাত, মঙ্গলা সমুদ্রবন্দর উন্নয়নের কাজের বরাত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার চিনের হাতে তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি বেজিংও ঢাকার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বেশ কিছু জায়গায় এখন চিনের প্রভাব রীতিমতো প্রকট। দরকার ছিল বাংলাদেশকে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা। সেই কাজে শি অনেকটাই সফল। এর ফলে চাপে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশগুলির থেকে তাদের প্রাপ্য বুঝে নিতে হবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চিন এখন অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সে দেশের কাছ থেকে কিছুই চাইছে না। চাইছে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসুক এবং সরকার তাদের স্বার্থ দেখুক। সেটা হলে চিন বেশ সমস্যায় পড়বে। কারণ, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এখন চিনের হাতে বাংলাদেশের যে সব প্রকল্পের দায়িত্ব রয়েছে, তা বাস্তবায়ন অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে চিন চাইছে বাংলাদেশের নির্বাচন আরও পিছিয়ে দেওয়া হোক। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংও অর্থনীতিতে গতি আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্কের কারণে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম। আগামীদিনে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, সে দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post